© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

শেয়ার করুন:
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫০ এএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালির সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন। বুধবার (১৮ মার্চ) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় পরিদর্শনে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি প্রশাসন অবগত এবং এ সংকট সমাধানে তারা কাজ করছেন। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে প্রেসিডেন্টের আগে নিজে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান ভ্যান্স।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে; প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় ৪০ ডলারের বেশি বেড়ে বর্তমানে ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এ প্রণালি দিয়েই রপ্তানি হতো।

হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং মিত্র দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল' এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রণালির কোনো প্রয়োজন নেই। ইরানকে 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করে এ প্রণালির দায়িত্ব অন্যান্য ব্যবহারকারীদের হাতে ছেড়ে দেয়, তবে নিষ্ক্রিয় মিত্ররা দ্রুত লাইনে আসতে বাধ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ট্রাম্প ন্যাটো এবং এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও তাতে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস ও স্পেনের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও সেখানে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে; কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার কথা বলেছে। এমনকি চীনের প্রতি আহ্বান জানানো হলেও বেইজিং তাতে সাড়া দেয়নি।

অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের প্রণালি খোলা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ইতোমধ্যে সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আরআই/ এসএন

মন্তব্য করুন