গণভোট বাস্তবায়নের দাবি আদায় করে ছাড়ব: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৯ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ’ বলে মন্তব্য করেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা গণভোটের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংসদে উঠিয়েছি এবং স্পিকার এটা আমলে নিয়েছেন, এটা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ব্যাপারে আমরা কমিটেড।
আমরা জনগণের কাছে যখন গিয়েছি, তখন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোট চেয়েছি। জনগণ দুটি ভোটই দিয়েছেন। একটি হালাল হলে আরেকটি হারাম হবে কেন? একটি হারাম হলে আরেকটি হালাল হয় কীভাবে? এটা সরকারি দল যত তাড়াতাড়ি বুঝবে, তত তাড়াতাড়ি সংকট কাটবে।’
তিনি বলেন, ‘তারাও (সরকারি দল) গণভোটের কথা বলেছে, জাতির সঙ্গে কথা দিয়েছেন, তারাও গণভোটকে সমর্থন করেছে, এখন যদি এটার বিরোধিতা করে, খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই, জনতার সর্বোচ্চ রায়কে যেন সবাই সম্মান করে। এটা হলে ভালো, না হলে ৭০ ভাগ বিশাল জনগোষ্ঠী যে আকাঙ্খা পোষণ করেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’
শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর গার্লস স্কুল মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথাব বলেন।
জামায়াত আমির সবাইকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত। জুলাই পরিবর্তনের পর এবার দ্বিতীয় ঈদুল ফিতর। আমরা যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা আছে। শহীদ, আহত, পঙ্গু ও জুলাইযোদ্ধাসহ দেশের সমস্ত মুক্তিকামী মানুষের কাছে এই দায়বদ্ধতা।’
তিনি বলেন, ‘ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে। ঈদ এলে শহর-নগরের জনগণ নাড়ীর টানে বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে। সেই যাত্রায় অতীতেও নানা সমস্যা ছিল, এবার সমস্যা হয়েছে আরো বেশি মাত্রায়। এর জন্য আমরা খুব লজ্জিত ও ব্যথিত। পরিবর্তিত বাংলাদেশে এটা হওয়ার কথা ছিল না। ভাড়া নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, সরকারের মন্ত্রী এসব বিভাগের সংশ্লিষ্টরা যেসব কথা একেক সময় বলেছেন, আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত, জানি না তারা অনুতপ্ত কি না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প অল্প টাকা জমিয়ে গ্রামে যায়। কিন্তু সেই টাকাটাই যদি ভাড়ায় সব শেষ হয়ে যায়, তাহলে ঈদের আনন্দই তো ম্লান হয়ে যায়। তারা কষ্টের মধ্যে পড়ে যায়। এটা অমানবিক, এটা আসলে মানবতাবিরোধী অপরাধ। যেটা গোটা জাতির সঙ্গে করা হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, নিঃসন্দেহে তারা ভালো কাজ করেনি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তাদের উচিত ছিল এই ঈদযাত্রা আরামদায়কও স্বস্তিদায়ক করা। এটা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তার পরও এই ঈদের রহমত আল্লাহ দান করেছেন, এ জন্য শুকরিয়া আদায় করি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা যখন ঈদের নামাজ আদায় করলাম, তখন গাজা, ফিলিস্তিন, ইরান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। যুদ্ধের দাবানলে মানবতা, সভ্যতা জ্বলে-পুড়ে ছাই হচ্ছে। যারা এই যুদ্ধ উসকে দিয়েছে, আল্লাহ যেন তাদের মানবতাবোধ দান করেন, তারা যেন মানুষকে সম্মান করতে শেখে এবং এই যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ যেন জালিমের বিরুদ্ধ মজলুমকে সাহায্য করেন এবং তাদের বিজয়ী করে দেন। আমরা দেশবাসী ও সমগ্র বিশ্বের ভাই-বোনদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ।
এ সময় জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
টিকে/