অবশেষে অচল ডেমু ট্রেন মেরামতের উদ্যোগ রেলওয়ের
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪২ এএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
ভাঙারি হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হঠাৎ করেই বিকল ডেমু ট্রেন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। তবে মেকানিকদের মতে, দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এসব ডেমু এখন আর সংস্কারযোগ্য নয়। আলাদা ওয়ার্কশপ ও দক্ষ জনবল ছাড়া মেরামত করলেও কোনো সুফল আসবে না। এদিকে, ডেমু সচল করা সম্ভব নয় জেনেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ডেমু ট্রেনগুলো যেন মাটির সঙ্গে মিশে যেতে বসেছে। দেখে মনে হয়, বিশাল এলাকা জুড়ে রেলের স্ক্র্যাপ পড়ে আছে। অথচ প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হয়েছিল এই ডেমুগুলো।
বৈদ্যুতিক প্রযুক্তিনির্ভর এসব ট্রেনের যন্ত্রাংশ এখন আর অক্ষত নেই। ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন অংশ খুলে পড়েছে, অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি বৈদ্যুতিক ডিভাইসের বড় অংশও হারিয়ে গেছে।
২০১৪ সালে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের সেবা দিতে সাড়ে ছয়শ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ২০টি ডেমু ট্রেন কেনা হয়। তবে চালুর এক বছরের মধ্যেই একে একে বিকল হতে শুরু করে ট্রেনগুলো। কয়েক বছরের মধ্যে সবগুলো ডেমুই অচল হয়ে পড়ে। দুই-একটি সচল থাকলেও গত প্রায় অর্ধযুগ ধরে সেগুলোও পড়ে আছে অবহেলায়।
রেলের মেকানিকরা জানান, অনেক অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, আবার অনেক যন্ত্রাংশ জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামত করলেও এসব ট্রেন আর ঠিকভাবে চলার মতো অবস্থায় নেই।
ডেমু সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে এসব ট্রেনের প্রযুক্তি উপযোগী নয়। তবুও সেগুলো কেনা হয়েছিল। দেশে ডেমু মেরামতের জন্য কোনো উপযুক্ত ওয়ার্কশপ নেই, নেই প্রশিক্ষিত জনবলও। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও বাজারে সহজলভ্য নয়।
মেকানিকদের মতে, দেশে মানসম্মত ওয়ার্কশপ না থাকায় মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
মেরামতের সক্ষমতা না থাকা এবং অলাভজনক হওয়ায় প্রায় দুই বছর আগে ডেমু ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। তখন এগুলো ভাঙারি হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনাও করা হয়।
তবে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে তেমন লাভ হবে না বলেই মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজার হোসেন বলেন, ট্রেনগুলোর বডি ফাইবার দিয়ে তৈরি হওয়ায় ভাঙারি হিসেবে তেমন মূল্য পাওয়া যাবে না। কিছু লোহার যন্ত্রাংশ ছাড়া বড় কোনো লাভ নেই। তাই মেরামত করে আবার চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, এসব ট্রেন মেরামত করলেও সেগুলো চালানোর সক্ষমতা থাকবে কি না। তার মতে, কাউকে বিশেষ সুবিধা দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই এই প্রকল্পটি সফল ছিল না। এমনকি চালু থাকা সময়েও এসব ট্রেন থেকে জ্বালানি খরচ পর্যন্ত ওঠেনি।
এসকে/টিকে