মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে আটকা ৪০ হাজার বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত
১০:০০ এএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। দেশে ফেরার সরাসরি ফ্লাইটের এক টিকিটের ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা। অতিরিক্ত খরচ ও নানা জটিলতার মধ্যে থাকা ওমরাহ পালনকারীরা সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তা চেয়েছেন।
চিরন্তন বিশ্বাসের এক অনন্য স্থান পবিত্র মক্কা। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি, ব্যক্তি জীবনে পরিশুদ্ধতা ও ইবাদতের লক্ষ্যে প্রতিবছর আল্লাহর ঘর তাওয়াফ, বিশ্বনবীর রওজা মোবারক জিয়ারত এবং ঐতিহাসিক স্থান দর্শনে হজ কিংবা ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ।
হজ মৌসুমের আগে-পরে প্রতি বছর সৌদি আরব যাতায়াত স্বাভাবিক থাকলেও এবার হিসেব পাল্টে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে সব ওমরাহ পালনকারীদের দেশে ফেরার কথা ছিল, শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন তারা আটকা পড়েছেন। শিডিউল না পেয়ে যারা প্যাকেজের বাইরে ফিরতে আগ্রহী, তাদের সৌদি-ঢাকা রুটের রাসরি একমুখী টিকিটে গুণতে হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা। অতিরিক্ত অর্থ সঙ্গে না থাকায় বিপাকে অনেকেই।
আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, থাকার ব্যবস্থা নেই, খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, টাকা নেই। সময় কাটানো দুঃসহ হয়ে গেছে; বিশেষ করে ছোটরা খুবই অতিষ্ঠ। নতুন টিকিট করেও ফেরার চেষ্টা করতে কষ্ট হচ্ছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকা বিমানগুলোতে ভাড়া প্রায় এক লাখ টাকা। হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে, যারা সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন তাদের দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করার জন্য।
এজেন্সিগুলোর তথ্য বলছে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে শুধু ওমরাহ করেন সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ মুসল্লি। যুদ্ধকালীন আটকা পড়ছেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ পালনকারী। তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হাজার হাজার ওমরাহ যাত্রী এখন সৌদি আরবে আটকা আছে। তাদের হোটেলের প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে। হোটেল এবং খাবারের সংকট মারাত্মক হয়ে গেছে। তাদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য আমরা বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। যারা এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছেন, তাদেরকে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে চলমান সংকট কাটাতে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা সহজ নয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যাদের সরাসরি ক্যারিয়ার আছে, তাদের ভাড়া বেড়ে গেছে এবং সিটও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সাধারণভাবে অন্য রুটে যাত্রা বদলানোও সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইচ্ছা থাকলে দুটি এয়ারক্রাফট ডেডিকেটেড করে ইভাকুয়েশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
ওমরাহ যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রানজিট ফ্লাইট না থাকায় অনেকেই বাড়তি খরচে দেশে ফিরতে পারছেন না। ঈদের পর এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
এসকে/টিকে