বিশ্ববাজারে দাম কমেছে বাংলাদেশি পোশাকের, বেড়েছে ভিয়েতনাম-ভারতের
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩০ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
বিশ্ববাজারে পোশাকের দামে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে প্রধান বাজার ইউরোপে দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। বিপরীতে সাড়ে ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে ভিয়েতনামের পোশাকের।
মার্কিন শুল্ক আর বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাকখাতে রফতানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে কাঁচামাল আমদানির ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার হার। ফলশ্রুতিতে বছর ব্যবধানে একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি কমেছে এক শতাংশ। আর সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপে কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।
এমন বাস্তবতায়, নতুন উদ্বেগ পোশাকের দাম নিয়ে। গত বছর ইউরোপে পোশাকের গড় দাম ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমলেও, চলতি জানুয়ারিতেই তা নেমেছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশে।
বিপরীতে বাজারটিতে প্রতিযোগী ভিয়েতনামের পোশাকের দাম বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভারতের প্রায় ২ আর ইন্দোনেশিয়ার পোশাকের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।
রফতানিকারকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা জ্বালানি সংকট বাড়িয়েছে ব্যবসার খরচ। বৈশ্বিক অস্থিরতায় বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। কারখানা সচল রেখে উৎপাদন যেমন ধরে রাখতে হচ্ছে, তেমনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, সব জায়গায় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, তাই অর্ডার কমে যাচ্ছে। ফ্যাক্টরি চালানো এবং ঋণের বোঝা মেটাতে রফতানিকারকরা কম দামে অর্ডার নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ইউরোপে যেন বাজার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই নিজস্ব কাঁচামালে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ অর্থনীতিবিদদের। সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওয়ান স্টেজ কনভার্শনে শূন্য শুল্ক সুবিধা থাকলেও জিএসপি প্লাস সুবিধা টু স্টেজ হবে; অর্থাৎ শুধু কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করলে হবে না, সুতা ও কাপড় নিজেদের উৎপাদন করতে হবে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য, চলতি জানুয়ারিতে ইউরোপের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় কমেছে সাড়ে ১৫ শতাংশ।
এসকে/টিকে