হংকংয়ে ফোন-কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড না দিলে ১ বছরের কারাদণ্ড!
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৪ পিএম | ২৩ মার্চ, ২০২৬
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নতুন করে কঠোর বিধিমালা আরোপ করেছে স্থানীয় সরকার। সোমবার (২৩মার্চ) এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তদন্তে পুলিশকে ফোন বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নতুন এ নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ারেন্টধারী পুলিশ যদি কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ পোষণ করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই পাসওয়ার্ড বা ডিক্রিপশন পদ্ধতি সরবরাহ করে তদন্তকারী সংস্থাকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক লাখ হংকং ডলার (প্রায় ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা) জরিমানা অথবা এক বছরের কারাদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত এ বিধান শুধু ডিভাইসের ব্যবহারকারীর জন্যই নয়। বরং ডিভাইসের মালিক, নিয়ন্ত্রক বা পাসওয়ার্ড সম্পর্কে অবগত যেকোনো ব্যক্তিই এ আইনের আওতায় পড়বেন।
এ বিধিমালার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, পেশাগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ নিয়ম সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলস্বরূপ সাংবাদিক, চিকিৎসক বা আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীরাও পুলিশকে পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য থাকবেন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ২০২০ সালে চীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে যে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করেছিল, নতুন বিধানটি তারই সংশোধিত ও বর্ধিত অংশ।
নতুন পদক্ষেপের বিষয়ে হংকং সরকারের পক্ষ থেকে এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যকলাপ প্রতিরোধ, দমন ও এর শাস্তি নিশ্চিত করতেই নিয়মগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আইনসম্মত অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে মানবাধিকার সংস্থা এবং পশ্চিমা দেশগুলো এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, কঠোর এ আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মূলত হংকংয়ে ভিন্নমত দমন এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে আরও সীমিত করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে
এসএস/টিএ