নিউইয়র্কে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষ, ২ পাইলট নিহত
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১১ এএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন, যাদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
রবিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার পর কুইন্সের এই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মন্ট্রিয়ল থেকে আসা জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের ফ্লাইট ৮৬৪৬ রানওয়ে ৪-এ অবতরণের শেষ পর্যায়ে প্রায় ৩০ মাইল গতিতে থাকার সময় একটি ফায়ার ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রাকটি অন্য একটি বিমানের জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে যাচ্ছিল।
বিমানে মোট ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন। পাইলট ও কো-পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পোর্ট অথরিটির এক সার্জেন্ট ও এক কর্মকর্তা হাড় ভাঙাসহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আহত যাত্রীদের এলমহার্স্ট হাসপাতাল ও নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার আগে রেডিও বার্তায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে ফায়ার ট্রাকটিকে থামতে নির্দেশ দিতে শোনা যায়। কিন্তু নির্দেশ পৌঁছানোর আগেই সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি ও কুয়াশায় দৃশ্যমানতা প্রায় তিন মাইলে নেমে এসেছিল। তবে আবহাওয়া এ ঘটনার কারণ কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত রাখে ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ)। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড ও এফএএ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
এফএএর গাফিলতির অভিযোগ
পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিদর্শক জেনারেল মেরি শিয়াভো বলেছেন, এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল এবং এর জন্য এফএএর দায়িত্বহীনতা দায়ী। সোমবার তিনি বলেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিমানকে রানওয়েতে নামার অনুমতি দেওয়ার পরও একই রানওয়েতে ফায়ার ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়াকে তিনি ‘স্পষ্ট ভুল’ বলে উল্লেখ করেন।
শিয়াভো এই ঘটনাকে সম্প্রতি ঘটা আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার সংঘর্ষের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, সে ঘটনাটিও এফএএর একই ধরনের দায়িত্বে অবহেলার ফল ছিল।
এমআই/টিএ