দুবাইয়ে সম্পত্তির দাম কমছে
ছবি: সংগৃহীত
০২:০১ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানে পাল্টা-পাল্টি হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে ইরান আগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে দুবাইয়ের প্রোপার্ট মার্কেট বা সম্পত্তির বাজারে শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে। আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত কমছে। কিছু আবাসন এজেন্ট দাম কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বজুড়ে ধনীদের আকর্ষণ ইউএইর বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’। তবে যুদ্ধের প্রভাবে এর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের এক নোট অনুযায়ী, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে ইউএইর আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে গত মাসের (ফেব্রুয়ারি) একই সময়ের তুলনায় লেনদেন পরিমাণ ৪৯ শতাংশ কম।
ইতিমধ্যে ইউএইর কিছু সম্পত্তি বড় ছাড়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের তথ্য ও রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা অনুযায়ী, সম্পত্তির দাম কোথাও কোথাও ১২-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার কাছাকাছি একটি সম্পত্তির মালিক দ্রুত বিক্রির জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার চেয়েছেন। এই সম্পত্তি আগে বিক্রির জন্য ৭ লাখ ৩৫ হাজার দর হাঁকা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দাম কমানো হয়েছে বলে ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়। সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।
একইভাবে দুবাইয়ের আকর্ষণীয় পাম জুমেইরাহ এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট প্রায় ২০ লাখ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আগের দামের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এমন বার্তা দেখা গেছে, যা রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রিয়েল এস্টেট খাতের উত্থান দুবাইয়ের অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। তবে টানা পাঁচ বছর দাম বাড়ার পর বাজারে মন্দার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সংঘাত এই বাজারের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। করমুক্ত নীতির কারণে ধনী অভিবাসীদের ঢলই এত দিন চাহিদা বাড়িয়ে রেখেছিল।
এদিকে আবাসন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও কমেছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই শেয়ারবাজারে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই যুদ্ধ দুবাইয়ে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় ‘উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করেছে। এতে বাড়ির ক্রেতা ও সম্পত্তি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে দুবাইয়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২ থেকে আড়াই শতাংশে সীমিত থাকতে পারে।
যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ হারে। তাতে আগামী দুই বছর সম্পত্তির দাম গড়ে ৭ শতাংশ হারে কমতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে মাঠপর্যায়ের নির্বাহীরা এখনই আতঙ্কিত নন। তাদের মতে, বাজারে লেনদেন পুরোপুরি থেমে যায়নি।
এ বিষয়ে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকওকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমরান শেখ বলেন, ‘ঝুঁকি মূল্যায়ন ও উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে সবার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তবে তথ্য স্পষ্ট-লেনদেন বন্ধ হয়নি।’
তিনি জানান, আফ্রিকার একজন ক্রেতা তাদের বলেছেন, আগামী এক মাসে কোনো ভালো সুযোগ দেখা গেলে বিনিয়োগ করবেন।
পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন সম্পত্তি চলতি সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিক্রি হয়েছে। ডেভেলপার আরাডা বলেছে, এটি দুবাইয়ে ব্র্যান্ডেড বিলাসবহুল আবাসনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার প্রমাণ।
টিজে/টিকে