আহ্বায়কসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির শীর্ষ ৮ নেতার পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩০ এএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংগঠনিক অস্থিরতার কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আলাউল হকসহ শীর্ষ পর্যায়ের আটজন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তারা দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে ডাকযোগে ও অনলাইনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্রের অনুলিপি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
জমা দেয়া পদত্যাগপত্রে আটজন নেতার নাম উল্লেখ থাকলেও চারজনের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। স্বাক্ষরকারী নেতারা হলেন-জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আলাউল হক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হুদা খান রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ওলিউল ইসলাম কাফি এবং যুগ্ম সদস্য সচিব সৈয়দ কিবরিয়া।
অন্যদিকে, পদত্যাগপত্রে নাম থাকলেও স্বাক্ষর করেননি যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুস সবুর জেন্টু, সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তসিকুল আজম বাবু। দুটি পৃথক আবেদনপত্রে তারা ব্যক্তিগত কারণ ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় অপারগতার কথা উল্লেখ করে অব্যাহতি চেয়েছেন।
ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আলাউল হক বলেন, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমি দলের দায়িত্ব বর্তমানে সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

তবে জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হুদা খান রুবেল রাজনৈতিক ভিন্নমতের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা একটি বড় পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমাদের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্বাক্ষরহীন চারজন নেতার বিষয়ে তিনি জানান, তারা জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ফোনে পদত্যাগের বিষয়ে পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছেন এবং দ্রুত স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের ৫ জুন মো. আলাউল হককে প্রধান সমন্বয়কারী করে এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক কমিটি প্রথম গঠন করা হয়। পরে তাকেই আহ্বায়ক করে পূর্ণাঙ্গ জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক বছরের মাথায় কমিটির শীর্ষ নেতাদের এই গণপদত্যাগে জেলায় দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
এসকে/টিএ