গাইবান্ধায় পুলিশকে মারধরের ঘটনায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৭ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে মিজানুর রহমান মিজান (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গৃধারীপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান সারোয়ারে আলম।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি ও গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ২০১৩-১৪ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে ওই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তৌহিদুল ইসলাম একটি পত্রিকার পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান সারোয়ারে আলম বলেন, ‘গ্রেপ্তার মিজানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’ এর আগে গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার কিছু সময় আগে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ ( পলাশ আহমেদ) কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান।
এ সময় ওসির সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি, জামায়াত নেতা পলাশ থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী বাজারের মুরগিহাটের একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। তারা একপর্যায়ে ওসিকে মারপিট করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের ৯ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় হামলার শিকার পলাশবাড়ী থানার এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদকে (৩৫)। অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও শাওন (৩৫)। এ ছাড়া বৈরীহরিনামারী গ্রামের গোলজার রহমান (৩২), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৩৭)।
এসএস/টিএ