মঞ্চে উঠতে আজও ভয় করে: অনুপম খের
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৮ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
বিশ্ব নাট্য দিবস (২৭ মার্চ) উপলক্ষে নিজের অভিনয়জীবনে নাটকের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সচল ও সজাগ রাখার জন্য থিয়েটারই সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
অনুপম খের বলেন, ‘‘অভিনেতা হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য নাটক আমার কাছে অপরিহার্য। এটি মাঝে মাঝে জমে থাকা ধুলা সরিয়ে দেয়। এখানে ‘রি-টেক’ নেই, এই ভয়টাই আমাকে সতর্ক রাখে।”

তিনি বলতে চেয়েছেন, চলচ্চিত্রে যেখানে একাধিকবার দৃশ্য ধারণের সুযোগ থাকে, সেখানে থিয়েটারে প্রতিটি মুহূর্তই চূড়ান্ত। ‘সিনেমায় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সম্পাদনা, নানা ইফেক্ট থাকে। কিন্তু থিয়েটার একেবারেই খাঁটি জাদু’, যোগ করলেন অনুপম।
নাটকের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘মঞ্চ নাটকে দর্শক আর অভিনেতার মাঝে কোনও দূরত্ব থাকে না। হৃদস্পন্দন অনুভব করা যায়, আর সেটাই প্রমাণ করে আপনি বেঁচে আছেন। থিয়েটার আমাকে বারবার সেই অনুভূতিটা দেয়।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ার সত্ত্বেও মঞ্চে ওঠার আগে এখনও নার্ভাস হন অনুপম খের। ‘‘ভয়টা এখনও আছে। ১৯৯৪ সালে ‘সালগিরাহ’ নাটক দিয়ে প্রথম মঞ্চে উঠেছিলাম। আজও একই রোমাঞ্চ কাজ করে।’, বলেন তিনি।
তিনি জানান, শোয়ের দিন তিনি সাধারণত কিছু খান না, কারও সঙ্গে কথা বলেন না। “আমি ভীষণ ভীত থাকি। তাই আমাকে ‘লেজেন্ড’ বলা পছন্দ করি না। কারণ লেজেন্ডদের তো ভয় পাওয়ার কথা নয়!”
দ্রুতই তিনি নতুন নাটক ‘জানে পেহচানে আনজানে’ নিয়ে দর্শকের সামনে ফিরছেন। এই নাটকের মূল লক্ষ্য দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা।
‘আমি এমন নাটক করতে চাই, যেখানে দর্শক নিজেদের খুঁজে পায়। তারা যেন কিছু নিয়ে ঘরে ফেরে।’, বলেন অনুপম।
নাটকটিতে ছয়টি চরিত্র রয়েছে, যাদের মাধ্যমে দর্শক ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারবেন। এটি একটি সংগীতনির্ভর নাটক, যার সংগীত পরিচালনা করেছেন আনু মালিক এবং গান গেয়েছেন শান, সুখভিন্দর সিংসহ আরও অনেকে।
নাটকটি নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। অনুপম খেরের মতে, সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও মানুষের আবেগ একই থাকে। আর থিয়েটার সেই আবেগকে একসূত্রে বেঁধে দেয়।
বর্তমানে ঘরে বসেই সিনেমা দেখার সুযোগ বাড়লেও থিয়েটারের আবেদন কমেনি বলে মনে করেন এই অভিনেতা। ‘নাটক এক ধরনের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা। পরিবার নিয়ে বাইরে গিয়ে একসঙ্গে বসে নাটক দেখা, এটা কখনও পুরনো হয় না।’, বলেন তিনি।
সবশেষে ৭১ বছর বয়সী এই অভিনেতার মন্তব্য, ‘থিয়েটার শেখানোর বিষয় নয়। এটা অনুভব করার বিষয়। একবার দেখলেই আপনি বুঝবেন, কেন এটি কখনও পুরনো হয় না।’
বলা দরকার, প্রতি বছর ২৭ মার্চ বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় বিশ্ব নাট্য দিবস। নাট্যকলা ও থিয়েটার শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং নাট্যকর্মীদের সম্মান জানাতে ১৯৬১ সালে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) এই দিবসটির সূচনা করে, যা ১৯৬২ সাল থেকে পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই দিনে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
পিআর/টিএ