স্থল যুদ্ধের জন্য ১০ লাখের বেশি সেনা প্রস্তুত ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪২ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হার মানতে নারাজ ইরানের প্রতিরক্ষাবাহিনী। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের জন্য ১০ লাখের বেশি সেনা প্রস্তুত রেখেছে তেহরান।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা তাদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এমন ঘোষণার মধ্যেই ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলায় ১০ লাখেরও বেশি ইরানি যোদ্ধাকে সংগঠিত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির হাজার হাজার তরুণ বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এবং সেনাবাহিনীর সদর দফতরে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য গণ-আবেদন জমা দিচ্ছে।
তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে যুদ্ধের ময়দানে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ, উভয় পরিস্থিতির জন্যই তারা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রাচুর্যের মধ্যেই ইসরাইলে দেখা দিয়েছে সংকট। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইসহ একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজনের কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে আইডিএফের চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির বলেন, ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাপ ও জনবলের ঘাটতির মুখে দেশটির সামরিক বাহিনী ‘নিজের ভেতরেই ধসে পড়বে।
ইসরাইলি সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফের এখন একটি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন প্রয়োজন। এগুলো করতে না পারলে শিগগিরই আইডিএফ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকবে না এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাটিও টিকবে না।
একদিকে জনবল ও প্রতিরোধে প্রস্তুত ইরান, অন্যদিকে বহুমুখী যুদ্ধে চাপে ইসরাইল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইসরাইলকে টিকে থাকতে কৌশল ও সম্পদ পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।
এমআর/টিএ