মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি : এমরান সালেহ প্রিন্স
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩২ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন , মুক্তিযুদ্ধ ও গণ অভুত্থানের আকাঙক্ষাকে বিএনপি ধারণ করে এবং তা বাস্তবায়নে অংগীকারাবদ্ধ ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপি ও অংগসংগঠনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভা শেষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা পারিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ায় এমরান সালেহ প্রিন্সকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ।
সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যায় পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল, তারাই আজ বলছে-মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য ছিল। কিন্তু যাই হোক, তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার কথা মানায় না।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়েছিল এবং গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এখন তারাই বলছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য ছিল।
তিনি আরও বলেন, সেদিন এরা রাজাকার না হলে স্বাধীনতা অর্জনে এক সাগর রক্তের প্রয়োজন হতো না; নয় মাস নয়, হয়তো এক মাসেই বিজয় অর্জিত হতো।
তিনি আরো বলেন , ২৫ মার্চ কালো রাতে পাক বাহিনীর গণ হত্যার মুখে তৎকালীন মেজর জিয়া চট্টগ্রাম সেনানিবাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও পরবর্তিতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী জমায়াত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহকর্মী পরিচয়ধারী কাউকে হায়র করে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে নতুন নতুন বয়ান দেয়াচ্ছে। অথচ তিনিই বিএনপি ও পর্বতীতে বিএনপি জোটে থাকাকালে ভিন্ন কথা বলতেন । এরা ক্ষমতার লোভে ও না পাওয়ার বেদনা থেকে জামায়াতকে খুশী করতে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানকে ম্লান করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং নতুন নতুন বিভ্রান্তিকর বয়ান সৃষ্টি করছে।
জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াতের আমীরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রিন্স বলেন, বিএনপি জনগণকে ‘মাংস ও ঝোল’ একসাথে খাওয়াতে চায়। তবে সেই মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ হতে হবে এবং ঝোলে পরিমাণমতো তেল, লবণ ও মশলা থাকতে হবে-অর্থাৎ, যেকোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা প্রস্তাব হতে হবে পূর্ণাঙ্গ, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত।
ধোবাউড়া বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফরহাদ রাব্বানী সুমন, আব্দুল কুদ্দুস, ওয়াহেদ তালুকদার, গোয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম তালুকদার, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির, আব্দুল মোমেন শাহিন, মাহবুবুল আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এক্জিবিশন বানোয়ারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এমআর/টিএ