© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারতে বিবাহিত পুরুষের পরকীয়া সম্পর্ক অপরাধ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

শেয়ার করুন:
ভারতে বিবাহিত পুরুষের পরকীয়া সম্পর্ক অপরাধ নয়: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৫ পিএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
সামাজিক নৈতিকতা কখনো আইনি অধিকারের ঊর্ধ্বে হতে পারে না- এমন মন্তব্য করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, একজন বিবাহিত পুরুষ যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে ‘লিভ-ইন’ (পরকীয়া) সম্পর্কে জড়ান, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আদালত এই যুগলকে নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নারীর পরিবারের সদস্যদের তাদের জীবনে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

সম্প্রতি ভারতের এক পরকীয়া যুগলের করা সুরক্ষার আবেদনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জে জে মুনির এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, “একজন বিবাহিত পুরুষ যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তবে সেখানে কোনো অপরাধ নেই যার জন্য তাকে অভিযুক্ত করা যাবে। নৈতিকতা এবং আইনকে আলাদা রাখা বাঞ্ছনীয়।”

আদালত আরও যোগ করে যে, যদি প্রচলিত আইনে কোনো কাজ অপরাধ না হয়, তবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আদালত সামাজিক জনমত বা নৈতিকতার দ্বারা চালিত হতে পারে না।

মামলাটি এক তরুণীর আবেদনের ভিত্তিতে শুরু হয়, যিনি জানান যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় ওই ব্যক্তির সাথে বসবাস করছেন। তিনি শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধিতা করছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ওই যুগল আদালতে তাদের ওপর ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে যে, ওই নারীর অভিযোগের পর পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের ‘শক্তি বাহিনী বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলার রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাইকোর্ট বলে, “একত্রে বসবাসরত দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব।”

পরিস্থিতি বিবেচনা করে হাইকোর্ট পুলিশকে ওই যুগলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে এই সুরক্ষার জন্য দায়ী করেছে। একই সাথে আদালত ওই নারীর পরিবারকে আদেশ দিয়েছে যেন তারা যুগলের কোনো ক্ষতি না করে এবং তাদের বাসস্থানে প্রবেশ বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করে কোনো প্রকার বিরক্ত না করে।

ওই নারীর পরিবার অভিযোগ করেছিল যে, লোকটির বিরুদ্ধে তাকে বিয়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করার মামলা রয়েছে। তবে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই মামলায় ওই যুগলকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। আগামী ৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। সামাজিক নৈতিকতা আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে না যদি আইনের দৃষ্টিতে কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন