© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘আগের ডিসিকে বদলি করেছি কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের’

শেয়ার করুন:
‘আগের ডিসিকে বদলি করেছি কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৪৮ পিএম | ২৮ মার্চ, ২০২৬
বিএনপি নেতা ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর এক বক্তব্য জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার শিল্পকলা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের ডিসিকে ইচ্ছা করে বদলি করে দেওয়া হয়েছে, কারণ গভর্নমেন্ট আমাদের তো।’ নবাগত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে আহমেদ রুমীর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন নতুন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীনসহ মুক্তিযোদ্ধারা।

সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কুষ্টিয়ার আগের ডিসি গাদ্দারি করেছেন। উনি গাদ্দারি করেছেন। কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী? একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি-এটাই আমার অপরাধ।’

ওই নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন জানিয়ে রুমী বলেন, ‘হাইকোর্ট মামলা গ্রহণ করেছেন। ২৪ জুন শুনানি আছে।আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হব।’

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভর্নমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’

তার এই বক্তব্য আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, রুমী সাহেব এ কথা বলে নবাগত ডিসিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন। শুধু কুষ্টিয়া-৩ আসন নয়, জেলার আরও দুটি আসনে পরাজিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার ডিসি ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের ওই আদেশে কিছু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিসির প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ-মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। তবে ডিসির প্রত্যাহার আদেশ বাতিল করা যায়নি। এরপর নতুন ডিসি হিসাবে যোগ দেন তৌহিদ-বিন-হাসান।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন