© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খালেদ-মাসুদের বিরুদ্ধে অতীতের বহু মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য আছে: চিফ প্রসিকিউটর

শেয়ার করুন:
খালেদ-মাসুদের বিরুদ্ধে অতীতের বহু মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য আছে: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১১ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অতীতের বহু মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এক–এগারো এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন বিনষ্ট করার জন্য এবং আয়নাঘরসহ নানা অপকর্ম- খুন, গুম, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, সেই রকম দুজন দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তা একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আরেকজন শেখ মামুন খালেদ। এরইমধ্যে তারা গ্রেফতার হয়েছেন। তারা অন্য মামলায় পুলিশি হেফাজতে বা রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড আমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সক অভিযোগ আমাদের এখনই প্রকাশ করার সুযোগ নেই। তবে আমরা মনে করি তাদের অতীতের সব কর্মকাণ্ড এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া প্রয়োজন। এই দুষ্কৃতকারীদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্বে থেকে আর কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।’

আবু সাঈদের মামলার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘৯ তারিখে জাজমেন্টের জন্য আছে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে। আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, আবু সাঈদের মামলায় যে আসামিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেখানে কেউ বাদ পড়েনি। তবে একজন আসামি সম্পর্কে আমরা তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি যে, ভিডিও ফুটেজে তাকে দেখা গেলেও ওই দিনের ঘটনায় তার সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল না। কিন্তু ঠিক তার পরের দুদিনের ঘটনায় তার সরাসরি অংশগ্রহণ আমরা পেয়েছি এবং সেই বিষয়ে আলাদা মামলা ও তদন্ত চলছে। আমরা তাকে ওই পরবর্তী দুটি মামলায় গ্রেফতারের জন্য আবেদন জানাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক-এগারো থেকে শুরু করে বিগত সরকার পর্যন্ত যারা রিং-লিডার ছিল, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে যেই হোক বা যত শক্তিশালীই হোক, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে তাদের বিচার করবে। কোনো ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) আমাদের কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’

এর আগে আজ সকালে ট্রাইব্যুনাল ২-এ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা ও শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ এপ্রিল দুজনকেই হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন