© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অবৈধভাবে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

শেয়ার করুন:
অবৈধভাবে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৫ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ দখল করার অভিযোগ উঠেছে। 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ওমর ফারুক, আ. রহমান ও মেহরাজ হোসেন নামের তিন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। ৮ আগস্ট গেজেট প্রকাশ এবং ২৫ আগস্ট শপথগ্রহণ শেষে ৪ সেপ্টেম্বর ওই পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী ওই সভায় পরিষদের সব  সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ওসমান গনি প্যানেল চেয়ারম্যান-১, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য পারভীন আক্তার প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হামজা জমির প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ নির্বাচিত হন যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রক্ষিতে বিভিন্ন সময় ইউপি চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজানের অনুপস্থিতিতে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওসমান গনি বিভিন্ন কার্যক্রমে চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের  পতনের পর দেশব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান হঠাৎ নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন।

এর পর তিনি পরিষদের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করে  পরিষদকে নিজের কব্জায় নেন। তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করেন। এরপর নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সনদে স্বাক্ষর করে আসছেন। এমনকি  সরকারি বিভিন্ন সুবিধা বণ্টনেও তিনি প্রভাব বিস্তার করে নিজের মতো করে ভাগবাটোয়ারা করছেন।
 
পরিষদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে পূর্বনির্ধারিত প্যানেল চেয়ারম্যানদের মধ্য থেকে কেউ দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ চেয়ারম্যানের সাময়িক দায়িত্ব পাওয়ার কথা। তিনি না থাকলে বা দায়িত্বপালনে অনিচ্ছুক হলে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ দায়িত্ব পালন করবেন। আবার প্যানেল চেয়ারম্যান-২ না থাকলে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু সেসব নিয়ম ভেঙে একজন সাধারণ সদস্যের দায়িত্বপালন একেবারেই বেআইনি।
 
পরিষদ সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতায় চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্যের স্বাক্ষর দেওয়া একটি সাদা রেজুলেশন ছিল। ইউপি সচিবের ওপর চাপ প্রয়োগ করে মিজান ওই সাদা রেজুলেশনে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দিলেও ইউএনও সেই রেজুলেশন গ্রহণ করনেনি। তার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি নিজের নামে সিল বানিয়ে স্বাক্ষর করছেন। 

এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান পরিষদটির চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের স্ব স্ব পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিজানকে প্যানেল চেয়ারম্যান দাবি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এর পরও তিনি বিএনপির দাপট খাটিয়ে এখনও বহাল তবিয়াতে পরিষদ চালাচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্টর পর পরিষদের অধিকাংশ সদস্য রেজুলেশন দিয়ে তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করেন। এর ভিত্তিতেই প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। 

বড়খেরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরনবী নোমান বলেন, দলীয়ভাবে আমাদের এমপি সাহেব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, আমরা যেন পরিষদের কোনো কার্যক্রমে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ না করি। এমপি সাহেবের কঠোর নির্দেশনা অমান্য করে মিজান মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এটা দুঃখজনক ঘটনা। 

বড়খরী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তিনি এ পরিষদে নতুন যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।পরিষদটির সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আমিনুল ইসলাম তুষার বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি রেজুলেশন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় গেলে তখনকার ইউএনও অফিসিয়ালি ওই রেজুলেশন গ্রহণ করেননি। কেবল তাকে (মিজান) মৌখিকভাবে সাময়িক দায়িত্ব পালনের জন্য বলেন। 

বড়খরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাকসুদ মিজানের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ঘটনাটি আমি এইমাত্র শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন