ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে সরব আমেরিকা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৯ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ‘নো কিংস’ নামের এই আন্দোলনের তৃতীয় দফায় সারা দেশে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) ‘নো কিংস’ হওয়া এই আন্দোলনের তৃতীয় দফায় হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনে বড় সমাবেশ হলেও, অধিকাংশ কর্মসূচি হয়েছে ছোট শহর ও কমিউনিটিতে- যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মিনেসোটার সেন্ট পলে রাজ্য ক্যাপিটল ভবনের সামনে বড় সমাবেশে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনগণের এই প্রতিবাদই যুক্তরাষ্ট্রের মূল শক্তি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সিনেটর বার্নার্ড স্যান্ডার্সও। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে কখনো স্বৈরতন্ত্র বা ধনিকশাসনের দিকে যেতে দেব না।’
নিউইয়র্কে বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়ে অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তবে হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র এসব বিক্ষোভকে ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন বলে উড়িয়ে দেন এবং দাবি করেন, এসব নিয়ে কেবল সংবাদমাধ্যমই আগ্রহী।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গের নির্দেশনা না মানায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা জানান, ট্রাম্পের নীতিগুলো তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।
তবে রিপাবলিকান নেতারা এই বিক্ষোভকে সমালোচনা করে ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আইকে/টিএ