© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জ্বালানির দাম বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে গণপরিবহন ফ্রি

শেয়ার করুন:
জ্বালানির দাম বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে গণপরিবহন ফ্রি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০০ এএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের ধাক্কা লেগেছে অস্ট্রেলিয়াতেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ কমাতে দেশটির দুটি অঙ্গরাজ্যে গণপরিবহন সাময়িকভাবে বিনামূল্যে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সরকার।

সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে আগামী ৩১ মার্চ থেকে পরবর্তী এক মাস ট্রেন, ট্রাম ও বাসে যাতায়াতের জন্য কোনো ভাড়া লাগবে না। রাজ্য সরকার বিষয়টিকে একটি ‘অস্থায়ী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যে ৩০ মার্চ থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত বাস ও ফেরিতে যাতায়াত সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধের আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম যেখানে ১.৭০ ডলার ছিল, বর্তমানে তা আড়াই ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) যাকিন্তা অ্যালান বলেন, “গণপরিবহন ফ্রি করার ফলে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে উৎসাহিত হবে। এটি জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আমাদের একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। এটি হয়তো সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।”


এদিকে তাসমানিয়ার প্রিমিয়ার জেরেমি রকলিফ জানান, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে গত এক সপ্তাহে গণপরিবহন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “জ্বালানির বাড়তি খরচ সাধারণ পরিবারগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ ফেলছে। জনগণকে এই বিপদ থেকে সুরক্ষা দিতেই আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আগাম কেনার হিড়িক পড়ে যাওয়ায় অনেক পেট্রোল পাম্পে এরই মধ্যে সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের জরুরি মজুদ থেকে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে, যাতে কৃষি ও খনিশিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সচল রাখা যায়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ এশীয় তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পুরো অঞ্চলই জ্বালানি সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন