বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে মুখ খুললেন বিসিবি সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৩ এএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও শেষপর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি), এমন মন্তব্য করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া আইসিসির সাথে বোর্ডের টানাপোড়ন ও সাম্প্রতিক সংকট নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশের আবেদনে আইসিসি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে সময় ভারতে বিশ্বকাপ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিশ্বকাপ না খেলা ভুল ছিল কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেন, 'এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার।'
বিশ্বকাপ না খেলায় আইসিসির সাথেও সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশের। তবে তা এখন সমাধান হয়ে গেছে বলেই দাবি বুলবুলের, 'আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে। মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে, যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসে না। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনই কাজ করি।'
বিশ্বকাপে না যাওয়া নিয়ে হচ্ছে তদন্ত। এ নিয়েও মুখ খুলেছেন বুলবুল। তিনি বলেন, 'ওইটার ব্যাপারে আমার ধারণা নেই, কিছু শুনিনি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে- সবই নির্ধারিত ছিল। তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।'
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে এনএসসির পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ১১ মার্চ গঠিত কমিটি নিয়ে পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, আইসিসির কাছে এটি ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আইসিসিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ ও ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তদন্ত কমিটি নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, পাঁচ মাস হলো বোর্ড স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে আমরা সিরিজ খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে—সবকিছুই হচ্ছে। তারপরও যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা আমাদের স্পোর্টসের মালিক। শুধু ক্রিকেট না, সবকিছুর মালিক—আমরা তাঁদের সম্মান করি।
বিসিবির বিবৃতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল, মুখোমুখি (সরকার–বিসিবি) যেটা বলা হচ্ছে। আমরা একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল (সরকারি হস্তক্ষেপ) হয়তো কিছু একটা হতে পারে। আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল ‘হতে পারে’, তার মানে এই না যে ‘হয়েছে’। পূর্বসতর্কতা হিসেবে এটা করা। সবার ভালোর জন্য আমরা অবস্থানটা পরিষ্কার করেছি। দিন শেষে আমরা তো বাংলাদেশের সরকারের অধীনই কাজ করি। বিবৃতির একটা লাইন অনেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। ‘ক্লোজ’ করার একটা কথা উল্লেখ আছে। এটাকে অনেকেই ‘তদন্ত বন্ধ করা’ বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ওটা ভুল ব্যাখ্যা।
এদিকে বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কিংবা বিতর্ক নিয়ে কোনো সংকট দেখছেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।'
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই পরিচালক। তাদের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মিডিয়া কমিটির প্রধানের পদ থেকে আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগটা (পরিচালকের পদ থেকে) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তারা পদত্যাগ করলেও আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাদের সঙ্গে কথা বলব।'
এসএন