মোটরসাইকেলে তেল সাশ্রয়ের ১০টি সহজ কৌশল
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০০ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকটে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে চলতে এবং পকেটের টাকা বাঁচাতে সচেতনভাবে মোটরসাইকেল চালানো জরুরি। নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারবেন।
১. সঠিক গতি বজায় রাখা
বাইক খুব দ্রুত বা খুব ধীরে না চালিয়ে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালানোর চেষ্টা করুন। সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বাইক চালালে সবচেয়ে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়। ঘন ঘন ব্রেক করা এবং বারবার হঠাৎ অ্যাক্সিলারেট করলে ইঞ্জিন বেশি জ্বালানি খরচ করে। বরং মসৃণভাবে গতি বাড়ানো অভ্যাস করুন।
২. সঠিক গিয়ার ব্যবহার
কম স্পিডে হাই গিয়ার বা বেশি স্পিডে লো গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং তেল বেশি খরচ হয়। গতি অনুযায়ী সঠিক গিয়ার পরিবর্তন করুন।
৩. ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা
যদি ট্রাফিক জ্যামে বা সিগন্যালে ৩০ সেকেন্ডের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। অলসভাবে ইঞ্জিন চালু থাকলে তেল অপচয় হয়।
৪. টায়ারের প্রেশার চেক করা
টায়ারে হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনের ওপর লোড বেশি পড়ে, ফলে তেল বেশি লাগে। সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যানুয়াল অনুযায়ী সঠিক টায়ার প্রেশার চেক করুন।
৫. চেইন এবং ক্লাচ অ্যাডজাস্টমেন্ট
চেইন: চেইন ঢিলেঢালা বা খুব বেশি টাইট থাকলে শক্তির অপচয় হয়। চেইন পরিষ্কার রাখুন এবং লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন।
ক্লাচ: ক্লাচ লিভার অতিরিক্ত টাইট বা লুজ থাকলে ইঞ্জিনের শক্তি চাকায় ঠিকমতো পৌঁছায় না।
৬. অযথা ব্রেক না করা
রাস্তায় চলার সময় সামনের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখুন। অযথা ঘন ঘন ব্রেক না চেপে থ্রটল কমিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন। একে 'স্মুথ রাইডিং' বলা হয়।
৭. ভালো মানের ফুয়েল ও সঠিক সময়
চেষ্টা করুন বিশ্বস্ত পাম্প থেকে তেল নিতে। রোদ বা অতিরিক্ত গরমে তেল না নিয়ে ভোরে বা রাতে তেল নেওয়া ভালো, কারণ তখন জ্বালানির ঘনত্ব বেশি থাকে।
৮. নিয়মিত সার্ভিসিং ও এয়ার ফিল্টার
বাইকের এয়ার ফিল্টার ময়লা হলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে তেল বেশি পোড়ে। নিয়মিত সার্ভিসিং এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।
৯. অতিরিক্ত ওজন বহন না করা
বাইকে অতিরিক্ত ওজন বা মালামাল বহন করলে ইঞ্জিনে চাপ পড়ে এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। রাইডিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় ভার এড়িয়ে চলুন।
১০. কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন চেক
আপনার বাইকটি যদি কার্বুরেটর চালিত হয়, তবে মেকানিক দিয়ে সেটি ‘ইকোনমি মোড’-এ টিউন করিয়ে নিন। আর এফআই (এফআই) ইঞ্জিন হলে সেন্সরগুলো ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।
বিশেষ পরামর্শ:
** ছোট দূরত্বে হাঁটা বা বিকল্প ব্যবহার করুন। খুব কাছের পথে মোটরসাইকেল ব্যবহার না করে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করলে জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
** রুট পরিকল্পনা করে বের হন। যেখানে যানজট কম, এমন রাস্তা বেছে নিন। বারবার থামা-চলা তেলের খরচ বাড়ায়।
** তেল সাশ্রয়ের পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। আপনার সচেতনতাই পারে এই সংকটময় সময়ে কিছুটা স্বস্তি দিতে।
পিআর/এসএন