তালসারি শুটিং নিয়ে প্রশ্ন, রাহুলের মৃত্যুতে ওঠা একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন লীনা
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৯ এএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
তালসারিতে শুটিং করাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা মৃত্যুর ঘটনা এইমুহূর্তে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের জন্য সমুদ্র সৈকতে এক রোম্যান্টিক দৃশ্যের শট দিচ্ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই কীভাবে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন? শুটিং স্পটেই বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল? গত চব্বিশ ঘণ্টায় এহেন একাধিক প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে জনসাধারণের মনে। ইতিমধ্যেই রাহুলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন টলিপাড়ার একাংশ। এমতাবস্থায় দেশের একটি গণমাধ্যম-কে কী জানালেন ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Ganguly)?
“আগের দিনই দেখা হয়েছিল। ও এই চরিত্রটা করতে পেরে খুব খুশি ছিল। অনেকদিন কাজ ছিল না ওর। আগের কাজটা হয়নি। আমিও ওকে চাইছিলাম, রাহুলও কাজ করতে চাইছিল ডেসপারেটলি। সেদিনও বলল, ভালো করে কাজটা করার চেষ্টা করছি। আমি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কথা বলেছি।…”
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, রবিবার ঘটনার সময়ে প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল। এবং তেমন জলে শুটিংও ছিল না। কিন্তু পুলিশের হাতে আসা কিছু ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতা মিশ্রর হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুটা যাওয়ার পরই হঠাৎ অভিনেত্রী টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রাহুল আরেকটু সামনে পড়ে গিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে তলিয়ে যান।
নায়িকা শ্বেতাকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করা গেলেও, নায়ক রাহুলকে দেরিতে উদ্ধার করা যায়। সোমবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। তবে ফুসফুসের ভিতরে অত্যাধিক নোনা জল ও বালি পাওয়া গিয়েছে। পাকস্থলি, খাদ্যনালি, শ্বাসনালিতেও বালি ঢুকে গিয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘণ্টাখানেক জলের ভিতর না থাকলে এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। ফলত, এই মৃত্যু তুলে দিয়েছে অনেক প্রশ্ন। আসল ঘটনা ঠিক কী? কেউ কেউ শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, ওইখানে আদৌ শুটিংয়ের অনুমতি ছিল কি? এমনও প্রশ্ন উঠেছে। সুদীপ্তা চক্রবর্তী, পরিচালক পারমিতা মুন্সী, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, চৈতি ঘোষাল ও আরও অনেকেই সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন। রাহুলকে উদ্ধার করতে এতটা সময় লাগল কেন? প্রশ্নটা কিন্তু ঘুরছে।
“সব জায়গায় একজন কো-অর্ডিনেটর সেট করা হয়। সেই কো-অর্ডিনেটরের কাছে সবকিছু দেওয়া থাকে, তখন সেই প্রোডাকশন ম্যানেজার, বলা যায়। কো-অর্ডিনেটরেরই সব অ্যারেঞ্জ করে দেখে নেওয়ার কথা। সে বলেছে, পারমিশন আছে। যেটা আমার হাতে এখনও নেই, এলেই দিয়ে দেব।”

‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর এই ধারাবাহিক। লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, আপাতত মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত বিধ্বস্ত। যদিও তিনি নিজে স্পটে উপস্থিত ছিলেন না, তবে লীনার মন্তব্য, “আমি যা শুনেছি, শুটিং স্পটে হাঁটু জলের বেশি জল ছিল না। ওড়িশা পুলিশও সেকথা বলেছে। ওখানে একটা ঢেউ চলে আসে, আর রাহুলের পা স্লিপ করে যায়।” স্ক্রিপ্টে কি জলে শুটিংয়ের দৃশ্য ছিল? “নিশ্চয়ই ছিল, তবে গভীর জলে ছিল না। ওই অল্প জলের জন্যই তালসারি বেছেছিলাম, নয়তো পুরী বাছা হত। গোড়ালি ভেজা জল ছিল সকালের দিকে, ওইটুকু জলে কী করে শুট করবে! তার পরে ম্যাক্মিমাম হাঁটু অবধি জল ছিল। এটা অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং টেকনিশিয়ানরাও বলেছেন।” তালসারিতে শুটিংয়ের অনুমতি ছিল, কি ছিল না? এই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে। এপ্রসঙ্গে লীনার জবাব, “সব জায়গায় একজন কো-অর্ডিনেটর সেট করা হয়। সেই কো-অর্ডিনেটরের কাছে সবকিছু দেওয়া থাকে, তখন সেই প্রোডাকশন ম্যানেজার, বলা যায়। কো-অর্ডিনেটরেরই সব অ্যারেঞ্জ করে দেখে নেওয়ার কথা। সে বলেছে, পারমিশন আছে। যেটা আমার হাতে এখনও নেই, এলেই দিয়ে দেব।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে একাংশের মনে। কী বলবেন? লীনার স্পষ্ট উত্তর, “নৌকা ছিল। আমি আগের দিন ওই নৌকাতেই ওখানে গিয়েছিলাম।” আর অভিনেতা রাহুলকে নিয়ে কী বলবেন? লেখিকা বলছেন, “আগের দিনই দেখা হয়েছিল। ও এই চরিত্রটা করতে পেরে খুব খুশি ছিল। অনেকদিন কাজ ছিল না ওর। আগের কাজটা হয়নি। আমিও ওকে চাইছিলাম, রাহুলও কাজ করতে চাইছিল ডেসপারেটলি। সেদিনও বলল, ভালো করে কাজটা করার চেষ্টা করছি। আমি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা এখন কাউকে অ্যালাও করছে না। তবু আমাদের টিমের সবাই গিয়েছিল। আমি প্রিয়াঙ্কাকে মেসেজ করেছি, ও যেদিন কমফর্টেবল ফিল করবে, যখন জানাবে, আমি যাব।”
টিজে/টিএ