জ্বালানির সংকট নেই, এপ্রিল মাসেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: জ্বালানি যুগ্মসচিব
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৮ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মার্চ মাসে যেমনভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে, এপ্রিল মাসেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ কমবে না। জনগণ স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ক্রয় করলে কোনো সমস্যা হবে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুত ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার দিনরাত কাজ করছে যাতে জ্বালানি খাতে কোনো সমস্যা না হয়। সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে আগামী মাসগুলোতেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহে সরকার-টু-সরকার এবং উন্মুক্ত দরপত্র, উভয় পদ্ধতিই চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে আমরা অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ও ক্রয় কমিটিতে একাধিক প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এখনও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একে 'মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কজনিত ক্রয়ের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বস্ত করে তিনি জানান, মার্চ মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৪ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন। ফলে এ ক্ষেত্রেও কোনো ঘাটতি নেই।
এলএনজি সরবরাহ নিয়েও মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।রেশনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কয়েকটি স্থানে এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
ডিজেলের মজুত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দুইভাবে হিসাব করে, ব্যবহারযোগ্য মজুত এবং ‘ডেড স্টক’সহ মোট মজুত। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মোট মজুত হিসাবের ভিত্তিতে, আর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ অংশ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। ফলে তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। মজুতদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কে কী উদ্দেশ্যে মজুত করছে তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবে। তবে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
আইকে/টিএ