© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কিছু মানুষ কেন যেন আমাকে পছন্দ করে না: নেইমার

শেয়ার করুন:
কিছু মানুষ কেন যেন আমাকে পছন্দ করে না: নেইমার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৬ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
পেশাদার ফুটবলের একেবারে শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে নেইমার। জীবনের পরমান্ত্যে মানুষ যেমন, স্থির হয়ে বসে সবকিছুর যোগ-বিয়োগ করেন। একটা পর্যায়ে কী হলে কী হতো, এমন অনেক ভাবনায় ডুবে যাওয়ার সময় আসে। তেমন অধ্যায়ই যেন পার করছেন নেইমার। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করে অনেক সাফল্যের স্বাক্ষী হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

পাশাপাশি শৈশব থেকেই নিয়েছেন ত্যাগ ও তিতিক্ষার পাঠ। ফুটবল আর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নেইমার এবার ফিরে গেলেন ‘ছোট্ট নেইমারের’ কাছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন মাসও বাকি নেই। ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের জায়গা এখনো অনিশ্চিত। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর নেইমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে হাজির হলেন জীবনের গল্প নিয়ে। শোনালেন নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত গল্প। শৈশব থেকে শুরু সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ আখ্যান, ‘তখন আমার বয়স ১৩-১৪। স্কুলের ভ্রমণে যাওয়া হয়নি, বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যাওয়া হয়নি, কারণ পরদিন সকালে অনুশীলন থাকত। আমি প্রায়ই বলতাম, ‘ধুর! আমার সব বন্ধুরা মজা করছে, আর আমি ঘরে বসে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি।’

এরপর নেইমার যোগ করেন, ‘কিন্তু এর পেছনে একটা লক্ষ্য ছিল, একটা কারণ ছিল—আমি সেটা বুঝতাম। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগত, কিন্তু পরের দিনই আমি আনন্দে ভেসে যেতাম, কারণ আমি ফুটবল খেলতাম।’

বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও বিপুল অর্থসম্পদ অর্জন করলেও, কখনো কখনো নেইমার চান, এই সবকিছু থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে, ফুটবলের বাইরের এক সাধারণ জীবনও অনুভব করতে, ‘আমি প্রায় ২০ বছর থরে এই পরিস্থির মধ্যে আছি। ব্যাপারটা খুব কঠিন। ব্রাজিলে তো এটা একেবারেই ক্লান্তিকর ও নির্মম। মানুষ তোমাকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে, অথচ বোঝেই না তুমি একজন সাধারণ মানুষ।’



দিন শেষে নিজেকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে ভাবতেই স্বস্তি পান নেইমার, ‘ঠিক আছে, এটা ভীষণ কঠিন। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ—কারণ আমি পরিশ্রম করে এখানে পৌঁছেছি। কিন্তু আমি তো একজন মানুষই।’ কয়েক বছরই চোটের সঙ্গে লড়াই নেইমারকে স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। সবকিছু মেনে নিয়েই একজন সাধারণ মানুষের মতো আবেগ নিয়েই বাঁচতে চান তিনি, ‘আমিও কষ্ট পাই, ব্যথা অনুভব করি, কখনো খারাপ মুডে ঘুম থেকে উঠি, কাঁদি, রেগে যাই, আবার খুশিও হই, এগুলো সবই স্বাভাবিক। আমি কেন স্বাভাবিক জীবনটা কাটাতে পারব না?

অনেকের কাছেই ব্রাজিল ফুটবলে একজন কিংবদন্তি হওয়ার মতো অনেক কিছুই করেছেন নেইমার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বলে কথা। সান্তোসের এই তারকার অর্জনও তো কম নয়। ব্রাজিল তথা বিশ্বেই তাঁর আছে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠি। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও তো আছে। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফুটবলারের সমালোচকও যে কম নয়।

সম্প্রতি সমালোচকদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নেইমারকে। পান থেকে চুন খসলেই সমালোচকদের শূলে চড়ানো আচরণ পীড়া দেয় তাকে, ‘কোনো না কোনো কারণে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করে না, এটা দেখলে আমার খারাপ লাগে। আমি যেন ভুল করতে পারি না, একেবারেই না। অথচ আমি আগেই অনেক ভুল করেছি। আমি মাথা নত করে সেগুলো স্বীকার করি, কারণ এগুলো জীবনেরই অংশ। এখন আমার বয়স ৩৪, অনেক ভুল করেছি, সামনে আরও করব।’

নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সাম্বাদের হয়ে ৭৯ গোল করা এই তারকা খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও, তার পারফরম্যান্স এখনো জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো ঝুলেই আছে তাঁর।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন