© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় দেড় লাখ মানুষ জিম্মিদশা থেকে মুক্ত: চট্টগ্রাম ডিসি

শেয়ার করুন:
জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় দেড় লাখ মানুষ জিম্মিদশা থেকে মুক্ত: চট্টগ্রাম ডিসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৬ পিএম | ৩১ মার্চ, ২০২৬
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিনের ত্রাসের রাজত্ব ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার দাবি, এই অভিযানের ফলে পাহাড়ের এই দুর্গম জনপদে বসবাসরত প্রায় দেড় লাখ মানুষ দীর্ঘদিনের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এলাকাটিকে তারা কার্যত সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। এমনকি সেখানে অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও বেচাকেনার মতো ভয়ংকর কর্মকাণ্ডও চলত। ২০২১-২২ সালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও নানা প্রতিকূলতায় তা পুরোপুরি সফল হয়নি।

গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গিয়ে র‍্যাবের ডিএডি মোতালেব সরকার নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এরপরই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। গত ৯ মার্চ র‍্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে এক বিশাল যৌথ অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাহিনীগুলোর সমন্বিত দক্ষতায় কোনো প্রাণহানি ছাড়াই এই অভয়ারণ্য ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

অভিযানের পর এলাকায় একটি পুলিশ ও একটি র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সুবিধার অভাবে ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

পরিদর্শনকালে তিনি প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যের মনোবল বৃদ্ধিতে মিষ্টি ও তরমুজ নিয়ে যান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আলীনগর এলাকার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এলজিইডির মাধ্যমে দ্রুত এর উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ডিপ টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের জন্য টিনের ঘর ও পর্যাপ্ত টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দৃঢ়ভাবে বলেন, “চট্টগ্রামের কোথাও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে জঙ্গল সলিমপুরকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ এলাকায় রূপান্তর করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।”

পরিদর্শনকালে র‍্যাবের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ মোহাম্মদ সেলিম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন