অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মামলা, আটক ৩২
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৪ পিএম | ০১ এপ্রিল, ২০২৬
জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের মাঝে রংপুর নগরীতে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে চেকপোস্ট পরিচালনা করছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর নগরীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনে ৬০টি মামলা ও ৩২টি যানবাহন আটক করা হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলার লক্ষ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর ডিসির মোড়, মেডিকেল মোড়, মাহিগঞ্জ সাতমাথা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, শাপলা চত্বর ও মডার্ন মোড়ে ট্রাফিক বিভাগ চেকপোস্ট বসায়। এ সময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল, ট্রাক, কারসহ অন্যান্য যানবাহনে মামলা দেওয়াসহ যানবাহন আটক করা হয়। এ কার্যক্রম অব্যহত থাকার কথা জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এদিকে, সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন। অবৈধ মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করতে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে রংপুর নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন, শাপলা চত্বরে মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্স, ছালেক পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ির লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেক গ্রাহককে তেল না পেয়ে ফিরে যেতেও দেখা যায়। যেসব স্টেশনে তেল সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।
নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে সিটি ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হলে তেল নিতে আসা বাশার হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করে পাম্পে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন সনদ, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, মোটরযান চালনার হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মানসম্মত হেলমেট, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই জ্বালানি তেল বিক্রি চলছে। অথচ জেলা প্রশাসন থেকে এসব না থাকলে তেল দিতে নিধেষ করা হয়েছে। অনেককেই সবকিছু ঠিক থাকার পরও শুধু তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরেকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এই পাম্পে দুই দিন এসে ঘুরে গেছি। আজও দেখলাম বিশৃঙ্খলা, কোনো নিয়মের বালাই নেই। এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নেই। পাম্প মালিক তার ইচ্ছামতো পরিচিতদের আগে গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসন ও আশপাশের পরিচিত ফার্মেসি এবং হাসপাতাল-ক্লিনিকের ডাক্তারদের মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে লাইন ছাড়াই তেল দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার কারণে কেউ কেউ একই পাম্প থেকে একই দিনে দুই-তিনবার করে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বেশি প্রয়োজন তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি শিকার হচ্ছেন। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হচ্ছে। একটি মোটরসাইকেল বারবার বিভিন্ন পাম্প থেকে ঘুরে অতিরিক্ত তেল নেওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্যাগ অফিসার। এ ছাড়া, জেলার তিনটি জ্বালানি তেল ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ইউটি/টিএ