© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিশু শিল্পী থেকে ধুরন্ধরের সারা যেভাবে তারকা হয়ে উঠলেন

শেয়ার করুন:
শিশু শিল্পী থেকে ধুরন্ধরের সারা যেভাবে তারকা হয়ে উঠলেন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৮ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
‘ধুরন্ধর’ ছবির দ্বিতীয় কিস্তি মুক্তি পাওয়ার পর যাকে নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে, বহুবার দেখা পর্দার নতুন মুখ সারা অর্জুন। জানি, ‘বহুবার দেখা পর্দার নতুন মুখ’ বাক্য নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়ে যাবেন। হয়তো বলবেন, কথাটা যেন কেমন হয়ে গেল। তাহলে খোলাসা করেই বলা যাক। ‘ধুরন্ধর-২’-এ ‘ইয়ালিনা জামালি’ চরিত্রের অভিনেত্রী সারা অর্জুন অনেকের কাছে নবাগত। কিন্তু সারা যে আদৌ নবাগত নন, তা স্পষ্ট হবে তখনই যখন তাঁর অতীতকে টেনে আনা হবে।

সারা হলেন সেই তারকা, যাঁকে প্রতিনিয়ত নতুনরূপে পর্দায় দেখা গেছে। তাও আবার ভিন্ন ভিন্ন বয়সে, আনকোরা সব অবয়বে। তাঁর বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, তখনই পর্দায় দেখা গিয়েছিল একটি বিজ্ঞাপনের সুবাদে। তার বাবা-মা একটি বিপণন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তখনই এক বিজ্ঞাপন নির্মাতার চোখে পড়ে ছোট্ট সারাকে।

ব্যাস, এরপর আর কোনো কথা নেই, ছোট্ট সেই শিশুটিকে নিয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। সারার বাবা-মা দুজনেই রাজি হয়ে যান। সেই শুরু। এরপর দুই বছর বয়সে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয় এই খুদে মডেলকে। দুই বছর বয়স থেকে পর্দার নিয়মিত মুখ হয়ে উঠতে থাকেন সারা। আর বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরেই পরিচালক বিজয়ের হাত ধরে অভিষেক হয় তামিল সিনেমায়।

‘তাকেদেইবা থিরুমাগাল’ ছবির জন্য আলাদা তামিল ভাষা শেখানো হয়েছিল তাকে। আর তখনই আভাস পাওয়া গিয়েছিল, সারা হতে যাচ্ছেন আগামী দিনের আলোচিত তারকা। কারণ শুটিং চলাকালে দেখা গিয়েছিল, সারা শুধু নিজের সংলাপই নয়, সহঅভিনেতা বিক্রমের সংলাপগুলোও মুখস্থ করে নিয়েছে এবং শুটিংয়ের সময় বিক্রমকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে।

এত অল্প বয়সে সংলাপ ও অভিনয় এমনভাবে রপ্ত করেছে সারা, দশুটিং ইউনিটের সবাই হতবাক হয়ে গেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচকরা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, ‘বিক্রমের মেয়ে নীলার চরিত্রে সারা পুরো ছবির আকর্ষণ নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন।’

‘তাকেদেইবা থিরুমাগাল’ সারা ‘টুমরো’ নামে আরেকটি ছবিতে অভিনয় করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তাই বলে পথচলা যে থেকে গেছে, এমন নয়; বরং ২০১৩ সালে বলিউডের আলোচিত প্রযোজক একতা কাপুরের মাধ্যমে কান্নান আইয়ারের হিন্দি অতিপ্রাকৃত সিনেমা ‘এক থি ডায়ান’-এ কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন সারা। ছবির প্রধান চরিত্রের ছোট বোন মিশার ভূমিকায় অভিনয় করে অনেকের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। সেই সুবাদে আর সুন্দররাজনের রাইল নির্মিত ‘নীলাচোর’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান।

এই কাজটি শেষ হতে না হতেই তাঁর কাছে আসে অর্জুন বিজয়ের ‘শৈবম’ ছবির প্রস্তাব। সেখানে থামিঝসেলভি নামে একটি অল্পবয়সী মেয়ের প্রধান চরিত্রে দেখা গেছে সারাকে। আর এভাবে বিজ্ঞাপন থেকে অভিনয় জগতে ধীর পায়ে পথচলা সারার। তবে সমালোচকরা এটা স্বীকার না করে পারবেন না, তা হলো– সারা সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যার প্রতিটি কাজই নানাভাবে দর্শক মনোযোগ কেড়েছে।’



নানা অবয়বে, ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শক হৃদয় জয় করতে সময় লাগেনি তাঁর। কিন্তু এত কিছুর পরও সারা কেন যেন সবার চোখে নবাগত হিসেবে রয়ে গেছেন। আর নবাগত হিসেবেই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘ধুরন্ধর-২’ ছবিতে।

পর্দায় বহুবার দেখা মুখও নতুন মনে হতে পারে, যার অনন্য উদাহরণ সারা অর্জুন। ‘ধুরন্ধর-২’ সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া এ কথা স্বীকার করেছেন।

মুকেশ ছাবড়া বলেন, ‘‘শুরু থেকেই ‘ইয়ালিনা জামালি’ চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খোঁজা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের কথাও ভাবা হয়েছিল, তবে নির্মাতারা চেয়েছিলেন একেবারে অচেনা কাউকে। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে পর্দায় সম্পূর্ণ নতুন মনে হবে এবং যার অভিনয়ে কোনো পূর্বপরিচয়ের প্রভাব থাকবে না। সেই ভাবনা থেকে অডিশন নেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজারেরও বেশি অভিনেত্রী অডিশন দেন। কিন্তু তারা যা পারেননি, সেটি সারা করে দেখিয়েছেন। মাত্র একটি সংলাপ বলার মধ্য দিয়েই নজর কেড়ে নিয়েছিলেন পুরো টিমের। অডিশনের ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পরিচালক আদিত্য ধরও। এরপর সারাকে নিয়ে কাজ করার বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। আর এখন তো চারদিকে কেবল এই অভিনেত্রীর জয়জয়কার।’’


পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন