গরমে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া সমাধান
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৭ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘামের নিজস্ব কোনো দুর্গন্ধ নেই। কিন্তু ঘাম ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গেলে তখনই বিরক্তিকর গন্ধ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে ঘামের দুর্গন্ধ খুবই সাধারণ সমস্যা।
এটি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক সময় মানুষের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। পরিপাটি পোশাক বা স্মার্ট লুক থাকলেও শরীরের দুর্গন্ধ একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দামি পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে ঘামের দুর্গন্ধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তাই ব্যয়বহুল পণ্যের বদলে সহজ কিছু অভ্যাসই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
সমাধান শুরু করতে পারেন শরীরের ভেতর থেকেই। খাবার সরাসরি শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত রসুন-পেঁয়াজ, অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার, প্রসেসড মাছ-মাংস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে পারেন।
সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, পর্যাপ্ত পানি (প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার), দই (প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া) পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ খাদ্যাভ্যাস শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।
লেবু
সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাবেন লেবু। এর রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। গোসলের আগে বগলে প্রয়োগ করে ১০ মিনিট রাখতে পারেন।
ফিটকিরি
ফিটকিরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। গোসলের পানিতে ফিটকিরির গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিতে পারেন।
বেকিং সোডা
বেকিং সোডা ঘাম শোষণ করে ও পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘাম ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতেই পারে।
আপেল সাইডার ভিনেগার
এই উপাদান ব্যাকটেরিয়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এটিও পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তুলায় ভিজিয়ে যে স্থানে ঘাম বেশি হয় সেখানে ব্যবহার করতে পারেন।
ইউক্যালিপটাস তেল
এই তেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিতে পারেন এই তেল। এই অভ্যাস আপনার ত্বক সতেজ রাখতে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
গোসল
প্রতিদিন অন্তত গোসল করুন। গোসলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে।
পোশাক
ঘাম ও দুর্গন্ধের সমস্যা দূর করতে সঠিক পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ঢিলেঢালা, পাতলা, সুতি, লিনেন, খাদি বা রেয়নের মতো বাতাস চলাচল করতে পারে, এমন কাপড় পরতে পারেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যবহার করা কাপড় ধুয়ে দিতে হবে। ভেজা কাপড় ভালো মতো রোদে শুকিয়ে নিয়ে হবে। জুতা নিয়মিত পরিষ্কার করা, ব্যবহারের পর ভালোমতো শুকিয়ে নিতে হবে।
অনেক সময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস থেকেও ঘাম বেশি হতে পারে। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্গন্ধ বা ঘামের সমস্যা হলে অবহেলা না করে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ঘাম স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
সূত্র: আজকাল ডট ইন
পিআর/টিকে