হামের লক্ষণ দেখা দিলে বাচ্চাদের স্কুলে না পাঠানোর আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩১ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে অর্থের কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের এই কার্যক্রমে যত পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, সরকার সেই পরিমাণ অর্থ প্রদানে বদ্ধপরিকর। আপনাদের কী লাগবে, কী পরিমাণে লাগবে, তা আমাদের কাছে পরিকল্পনা করে পাঠান। আমরা সেই অর্থ বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করব। অর্থের অভাব রয়েছে এমন চিন্তা করে কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন না, এটি সকলের নিকট অনুরোধ।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, আগামীকাল শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) জুমার নামাজের খুৎবায় জনসচেতনতার জন্য ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের আলোচনা করতে নির্দেশনা প্রদান করা হবে। সেখানে অভিভাবকদের যেন জানিয়ে দেয়া হয়, কারো হামের লক্ষণ দেখা দিলে সেই বাচ্চাকে যাতে স্কুলে পাঠানো না হয়। সাথে সাথে যেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘গত ৩ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা কমেছে। এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এসেছে। আগামী রবিবার থেকে টিকা কার্যক্রম কাজ শুরু হলে আরও উন্নতি হবে। আমরা চাই না, আর নতুন করে কেউ আক্রান্ত হোক। কোন প্রাণহানি ঘটুক, তা আমাদের কাম্য নয়। সকল ইউএনও-এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব, তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডাক্তার ও নার্সদের ঘাটতি রয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের একান্ত ইচ্ছাতে এর সংস্থান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা করা হবে। প্রত্যেক হাসপাতালে হাম আইসোলেন কর্নার করা হয়েছে। যেসব হাসপাতালে করা হয়নি, তা দ্রুতই চালু করা হবে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকেও হামের চিকিৎসা নিতে যেতে পারে অনেকেই।’ সেক্ষেত্রে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোও যেন আলাদাভাবে হাম আইসোলেন কর্নার প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
অতিরিক্ত সচিব ড. বজলুর রশীদ বলেন, আশা করছি, ‘রোববার টিকা পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের যাতে যাতায়াতে কোন সমস্যা না হয়, সেলক্ষ্যে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের ব্যবস্থা করা হবে। সামনের দু-এক দিন ভালো ব্যবস্থপনার আওতায় আনতে হবে। আগামী ২-৩ দিনই আমাদের সময়, যেখানে আমরা হাম ক্যাপচারডাউন করে আনতে পারব কি না। আশা করছি, আমরা তা পারব এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
আরআই/এসএন