© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইসরাইলকে গোপনে তেল-সমরাস্ত্র সরবরাহ করছে গ্রিস!

শেয়ার করুন:
ইসরাইলকে গোপনে তেল-সমরাস্ত্র সরবরাহ করছে গ্রিস!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৪১ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইসরাইলে গোপনে জ্বালানি তেল, কয়লা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে গ্রিক শিপিং কোম্পানিগুলো। ‘নো হারবার ফর জেনোসাইড’ ক্যাম্পেইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫৭টি গোপন খনিজ তেলবাহী জাহাজ ইসরাইলি বন্দরে নোঙর করেছে। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী এই জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ব্যবহার করে ইসরাইলে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তুরস্ক ইসরাইলের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গ্রিক জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ত্যাগ করার সময় গন্তব্য হিসেবে মিশরের ‘পোর্ট সাইদ’ এর নাম লিখলেও বাস্তবে সেগুলো ইসরাইলে যেত। ধরা পড়ার ভয় এড়াতে জাহাজগুলো তাদের ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ বা ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে রাখত। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী ৩০০ টনের বেশি ওজনের জাহাজের জন্য এই সিগন্যাল বন্ধ রাখা অবৈধ।

জানা যায়, এই গোপন বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রীক শিপিং জগতের দুই প্রভাবশালী পরিবার। এর একটি আলাফৌজোস পরিবার যারা ‘কিকলাডেস মেরিটাইম করপোরেশন’-এর মালিক। এই পরিবারের প্রধান জিয়ানিস আলাফৌজোস গ্রিক ফুটবল ক্লাব পানাথিনাইকোসেরও মালিক।

অন্যটি হলো মার্টিনোস পরিবার যারা ‘দেনামারিস শিপস ম্যানেজমেন্ট’-এর নিয়ন্ত্রক। তাদের হাতে গ্রিসের বৃহত্তম জাহাজ বহর রয়েছে। কেবল জ্বালানি নয়, ২০২৫ সালে গ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাহাজগুলো অন্তত ১৩ বার ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করেছে। এর মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ এবং কামানের ব্যারেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক কাঁচামালও ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টন কয়লা ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। এই কয়লা ইসরাইলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রেও জাহাজগুলো ট্র্যাকার বন্ধ করে এবং গন্তব্য হিসেবে মিশরের ‘দামিয়েত্তা’ বন্দরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

এই গোপন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সোচ্চার হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ডক শ্রমিকরা ইসরাইলগামী ২১ টন গোলাবারুদ আটকে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের ডক শ্রমিকরা ১৮ টন কামানের ব্যারেল লোড করতে বাধা দিয়েছিল। 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন