পার্থর বিরুদ্ধে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে কী বললেন ফয়েজ আহমদ?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৬ এএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর লোকজন সরকারি জমি উদ্ধারে বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই ফেসবুক পোস্ট সরিয়ে ফেলে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার রাতে দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনির বেদখল জমি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ-সংক্রান্ত পোস্ট বিষয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এমপি আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। পার্থ ভাই জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না এবং উনার নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে থাকতে পারে। তিনি অবৈধ দখল-বাণিজ্যের মতো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সহায়তা করবেন না বলেছেন। এমপি হিসেবে পার্থ ভাইকে টিঅ্যান্ডটি কলোনির জমি উদ্ধারে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছি।’
ফয়েজ আহমদ জানান, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি, কলোনি-সংলগ্ন স্কুল ও মাঠের বেদখল করা জায়গা উদ্ধারের চেষ্টা চালালে কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক চক্র একাধিকবার বাধা দিয়েছিল। মাঠপর্যায়সহ কর্মকর্তাদের নির্বাচন পর্যন্ত কাজ বন্ধের জন্য চাপ দিয়েছিল।
ফয়েজ আহমদ আরও লিখেছেন, ‘বিটিসিএলের অবৈধ জমি উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য আমি ঢাকা জেলার সাবেক ডিসি, সাবেক ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, দুটি সংস্থার প্রধানকেও ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলাম।’
সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর অভিযোগ, কলোনিতে অবৈধভাবে ভাড়া, দরজা-জানালা চুরি, অবৈধ ঘর তোলাসহ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের চক্র রয়েছে। এসব অপরাধে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণাধীন সিবিএসহ সিন্ডিকেট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত পাঁচ কর্মচারীসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ফয়েজ আহমদ জানান, বাধা সত্ত্বেও তিনি কলোনি মাঠের অবৈধ উচ্ছেদ চলমান রেখেছিলেন। এর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক রিপোর্ট করিয়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ ও দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিগণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে প্রমোট করবেন এবং কর্মী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আন্তরিক সহযোগিতা করবেন, এটা প্রত্যাশা করি। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই প্রত্যাশা আরও বেশি।’
ইউটি/টিএ