মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৮ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজসহ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন আত্মহত্যা করেছেন এবং বাকি দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত থেকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগের বাসায় ‘বিষাক্ত দ্রব্য’ পানে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ জানায়, ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। একই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় উত্তরার একটি বাসা থেকে। সহপাঠীদের জানান, শাওন বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত পোস্ট দিয়েছিলেন।
এদিকে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের মৃত্যু এক ভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সহপাঠীদের অভিযোগ, এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের ‘রোষানলে’ পড়ে টানা পাঁচবার একই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে অভিমানে ১০৯টি ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম বর্ষেই ওই শিক্ষক নওশিনকে ফেল করানোর হুমকি দিয়েছিলেন।
আত্মহননের এই মিছিলের সমান্তরালে অসুস্থতার কাছে হেরে গেছেন আরও দুই মেধাবী প্রাণ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ নাফিজ শুক্রবার সকালে গৌরনদীতে নিজ বাড়িতে মারা যান। তিনি ব্রেইন ও স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অন্যদিকে, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সাবরী মাহি মারা গেছেন ডায়রিয়াজনিত জটিলতায়। সহপাঠীদের কাছে অত্যন্ত শান্ত ও নম্র স্বভাবের মাহি হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বন্ধুরা।
এসকে/টিএ