© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জুলাইযোদ্ধাকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে পুলিশে

শেয়ার করুন:
জুলাইযোদ্ধাকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে পুলিশে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫০ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
বরিশাল নগরের রূপাতলীর একটি মেসে অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একজনকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রূপাতলী ২২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসা ঘিরে রেখে পুলিশকে খবর দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে আটক করে।

আটকরা হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ও আকরাম খান ইমন এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী ও রাকিব হাসান রনি। তমাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সহপাঠীদের একটি অংশের দাবি।

জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে হওয়া মামলায় সাক্ষী হিসেবে তমালের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমাকে ধরেন। আমি আগেও জেল খেটেছি। আওয়ামী লীগ আমলেও জেল খেটেছি। আবার জেল খাটব ভাই।’

ঘটনার পর আটক আরেকজন আকরাম খান ইমন অভিযোগ করেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ করেছি, ছাত্রলীগের সঙ্গে এখন কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা কী ছিল, সেটা ক্যাম্পাসের যেকোনো শিক্ষার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে।

ইমন দাবি করেন, ‘যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, অতীতে তারাই বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন উল্টো আমাদের ছাত্রলীগ বানিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তার অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ইমন ব‌লেন, ‘আমি ছাত্রদল ক‌রে‌ছি। আমার ছাত্রলীগের কোনো পদ ছিল কি না, সেটাই আগে দেখাক।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ওই বাসায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠক করছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তারা পুলিশকে খবর দেন। পাশাপাশি সেখানে মাদক কারবারের অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারজনকে থানায় আনেন। কোতোয়ালি থানার এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন