বাল্যবিবাহ করালে লাইসেন্স বাতিল : ত্রাণমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:১৫ পিএম | ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাল্যবিবাহ করালে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বাল্যবিবাহ নিবন্ধনে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নিবন্ধিত মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রানমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সুন্দর জীবনকে শুরুতেই বাধাগ্রস্ত করে। বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা হচ্ছে। যে নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা রেজিস্ট্রি হবে, তার বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, বরং তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
রেজিস্টারদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিয়ের আগে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে রেজিস্ট্রি করতে হবে। কোনো চাপের মুখে বা কোন প্রলোভনে পড়ে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, যেখানেই বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া যাবে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে তা রুখে দিতে হবে। বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের প্রবণতা রোধে নিকাহ রেজিস্টারদের অবশ্যই সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও নিকাহ রেজিস্টারদের এগিয়ে আসতে হবে।
বর্তমান সময়ের সামাজিক অস্থিরতার ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহ, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতা চর্চা কমে যাওয়ায় তালাকের হার দিন দিন বাড়ছে। এটি একটি সুস্থ সমাজের জন্য অশনিসংকেত। আর বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে।
বিবাহ নিবন্ধকদের মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিয়ের নিবন্ধনের সময় যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি বিচ্ছেদ ঠেকাতেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। যৌতুক ও বাল্যবিবাহ একে অপরের পরিপূরক। এই দুটি ব্যাধি নির্মূল করতে পারলে সমাজে তালাকের হার এমনিতেই কমে আসবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়তে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস, নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নিকাহ রেজিস্টারগণ উপস্থিত ছিলেন।
এমআই/টিকে