© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিড়ালের সঙ্গে ভাব জমাবেন কীভাবে?

শেয়ার করুন:
বিড়ালের সঙ্গে ভাব জমাবেন কীভাবে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০২ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
সারা দিন একটা বিড়ালের সঙ্গে ঘুরে-ফিরে কেবলই আমার দেখা হয়

গাছের ছায়ায়, রোদের ভেতরে, বাদামি পাতার ভিড়ে...

একবার তাকে দেখা যায়,

একবার হারিয়ে যায় কোথায়।

কবি জীবনানন্দ দাশ তার ‘বিড়াল’ কবিতায় এক রহস্যময়, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা প্রাণীর ছবি এঁকেছেন। যদিও কবিতায় পরাবাস্তবতার ছোঁয়া আছে, বাস্তব জীবনেও অনেকটা তেমনই বিড়ালকে বোঝা সহজ নয়, আর তার সঙ্গে ভাব জমানোও সহজ নয়।

নগরজীবনের ছোট পরিবারের একাকিত্বে আজকাল পোষা প্রাণী অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে পরম সঙ্গী।

খরগোশ, গিনিপিগ, এমনকি বানর কত কী-ই না পোষে মানুষ! তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বরাবরই রয়েছে বিড়ালের নাম। কিন্তু এই রাশভারি প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা সবার পক্ষে সহজ হয় না।

যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে জীবনানন্দের কবিতার মতোই ‘একবার তাকে দেখা যায়, একবার হারিয়ে যায় কোথায়’ এমন অভিজ্ঞতা হওয়াই স্বাভাবিক। অথচ তাদের আচরণের ভাষা বুঝে নিতে পারলে, এই দূরত্ব খুব দ্রুতই ঘনিষ্ঠতায় বদলে যেতে পারে।

একবার ভাব হয়ে গেলে, আদুরে এই প্রাণীটি আপনাকে ছেড়ে থাকতে চাইবে না। তাই নতুন যারা বিড়াল পোষা শুরু করেছেন বা করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু বিষয় জানা জরুরি।
মাইকেলসন ফাইন্ড অ্যানিমেলসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বিড়াল বন্ধুত্বে বেছে নেয়, আর সেই বন্ধুত্ব অর্জন করতে হয় ধৈর্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে।

নিরাপদ জায়গা তৈরি করুন :

বিড়ালকে ঘরে আনার পরই আদর বা কোলে নেওয়ার চেষ্টা না করে তাকে সময় দিন। নতুন পরিবেশ তার জন্য চাপের হতে পারে। তাই তাকে এমন একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করুন, যেটাকে সে নিজের আশ্রয় মনে করতে পারে। একটি ‘ক্যাট কেভ’ বা সাধারণ কার্ডবোর্ড বাক্সের মতো তৈরি করুন। যেখানে সহজেই ভেতরে ঢোকা-বেরোনোর পথ আছে।
এটি ঘরে আগেই রেখে দিলে শুরুতেই সে সেখানে নিরাপত্তা খুঁজে পাবে।

একই আচরণ বজায় রাখুন :

বিড়াল অভ্যাসের প্রাণী। নির্দিষ্ট রুটিনে তারা স্বস্তি বোধ করে। নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো তাদের জন্য কঠিন। তাই খাবার, ঘুম বা খেলাধুলার সময়গুলো যতটা সম্ভব একই রাখুন। প্রথম দিকে আগের খাবারই দিন, পরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন।

সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দিন :

বিড়াল নিজেই ঠিক করে কখন সে আপনার কাছে আসবে। কেউ দ্রুত মিশে যায়, কেউ সময় নেয়। যখন সে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে প্রস্তুত হবে, তখন কিছু লক্ষণ দেখা যাবে। পা দিয়ে মাথা, কপাল দিয়ে ঘষা, ঘড়ঘড় শব্দ করা কিংবা আপনার পাশে বা কোলে বসা এ সবই তার আস্থার প্রকাশ।

কখন দূরে থাকতে হবে, তা বুঝুন :

শুধু কাছে টানা নয়, কখন দূরে থাকতে হবে, এটাও জানা জরুরি। বিড়াল যদি বিরক্ত হয় তাহলে কখনোই জোর করে যোগাযোগ রাখা যাবে না। এতে সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে। যদি দেখেন প্রিয় বিড়াল তার লেজ কাঁপাচ্ছে, কান পেছনে চেপে রাখছে, চোখের মণি বড় হয়ে যাচ্ছে এমন লক্ষণ দেখলে তাকে সময় দিন। যদিও ঘড়ঘড় শব্দও সব সময় সুখের চিহ্ন নয়; অনেক সময় এটি অস্বস্তি কমানোর উপায়।

কাছে আসতে উৎসাহ দিন :

জোর না করে কিছু কৌশলে তাকে কাছে টানতে পারেন। হাতে করে খাবার দেওয়া, পরে খাবারটি কোলে রেখে দেওয়া এসব ছোট উদ্যোগই তার জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এ ছাড়া লেজার পয়েন্টারের মতো খেলনা দিয়ে তার সঙ্গে খেলা করুন। ফলে ঘরে আপনার উপস্থিতি পেলেই সে আনন্দেও সঙ্গে আপনাকে গ্রহণ করা শিখবে।

ধৈর্যই মূল চাবিকাঠি :

বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্ক একদিনে গড়ে ওঠে না। তবে ধৈর্য আর ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখলে খুব দ্রুত এই দূরত্ব কমে আসবে। একসময় দেখবেন, যে প্রাণীটি একসময় দূরে দূরে থাকত, সেই-ই আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। খুব মায়াভরা চোখে গভীরভাবে আপন করে নেবে।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন