শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে: সংসদে পার্থ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৬ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। একই সঙ্গে তিনি সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিরোধিতা করে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার ওপর জোর দেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যে পার্থ বলেন, 'আমরা চাই জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানের ভেতর থেকেই আসুক এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনেই আসুক। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে অন্য কিছুর পায়তারা করা হচ্ছে।' তিনি বলেন, সংস্কার আর সংশোধনের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে দেশে একটি ‘কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল’ (আধা-সাংবিধানিক) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কারণ সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেলে কী হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই।
জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব হয়েছে। তাই তাদের দাবির বিষয়ে আরও ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, 'আপনারাই একমাত্র জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন-বিষয়টি এমন নয়।' আইন ও সংবিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করতে গিয়ে পার্থ একটি রূপক গল্প শোনান। তিনি বলেন, 'এক আইন ছিল, তিথি পাখি মারলে ১০ বছর জেল। এখন একজনের বাড়ির মুরগি প্রতিবেশী জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। সেই প্রতিবেশী মামলা ঠুকে দিল ১০ বছরের জেলের দাবিতে, কারণ তার যুক্তি, মুরগিও তো এক প্রকার পাখি আর অন্যের বাড়িতে সে ছিল অতিথি!'
তিনি আরও বলেন, যারা আইন বোঝেন না, তাদের বারবার বোঝানো অর্থহীন হয়ে পড়ে। শেষে তিনি বলেন, ২১৭টি আসন নিয়ে তারা সংসদে এসেছেন আইন পরিবর্তন ও সংবিধান সংশোধনের জন্য। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতর থেকে পরিবর্তন আনা হবে। যে সংবিধান জনগণের কথা বলে না, জনগণ সেটিকে গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইকে/টিএ