ইরানে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে কিনা, কী বলল দক্ষিণ কোরিয়া?
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৮ পিএম | ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের কারণে পিয়ংইয়ং ও তেহরানের সম্পর্ক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও সামরিক সহযোগিতার ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
চলমান ইরান যুদ্ধেও কিম জং উনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সম্পর্কের সুযোগ বজায় রাখতে পিয়ংইয়ং ধীরে ধীরে তেহরানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে।
গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-ওন এ দাবি করেন। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধে দীর্ঘদিনের মিত্র ইরান থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখছে উত্তর কোরিয়া। বিশেষ করে যুদ্ধ পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সুযোগ খুঁজতে সতর্ক রয়েছে পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি।
সংসদ সদস্য পার্ক সুন-ওন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও পিয়ংইয়ং কোনো শোকবার্তা প্রকাশ করেনি।
এনআইএস-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লা খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়া কোনো অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান যুদ্ধে চীন ও রাশিয়া যেখানে নিয়মিত বিবৃতি দিচ্ছে, সেখানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি বিবৃতি দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, পিয়ংইয়ংয়ের বিবৃতিগুলোর ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে নরম। এটি ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে চলার উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতার সঙ্গেই এই অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এনআইএস বলছে, শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। সম্ভাব্য এই বৈঠকের দিকেও নজর রাখছে উত্তর কোরিয়া।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নবম ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে কিম জং উন ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের ‘শত্রুতামূলক নীতি’ প্রত্যাহার করে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমআর/টিকে