© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি পেন্টাগনের

শেয়ার করুন:
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি পেন্টাগনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪২ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনে বুধবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, ৩৮ দিনের এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও শিল্প কাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে একটি সুনির্দিষ্ট সামরিক বিজয় অর্জন করেছে।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, মার্কিন হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের আকাশসীমা এখন সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। মঙ্গলবার রাতের মাত্র ৮০০টি নিখুঁত হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সামগ্রিক শিল্প ভিত্তি ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

হেগসেথের মতে, ইরান এখন আর নতুন করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা চালকবিহীন বিমান তৈরির সক্ষমতা রাখে না। বিস্ময়কর তথ্য দিয়ে তিনি আরও জানান, এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে
যুক্তরাষ্ট্র তার মোট সামরিক শক্তির মাত্র ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করেছে।

এই সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না এবং আলোচনার মাধ্যমে ইরানের হাতে থাকা সব পারমাণবিক সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হবে।

জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে জানান যে, ৩৮ দিনের এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর ফলে দেশটির ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ৯০ শতাংশ নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এই বিজয়ের পাশাপাশি যুদ্ধে প্রাণ হারানো ১৩ জন মার্কিন সেনার প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ড্যান কেইন চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি মানেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি ইরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তবে মার্কিন বাহিনী গত ৩৮ দিনের মতো একই গতি ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদে পুনরায় হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ এই যুদ্ধবিরতিকে প্রকৃত শান্তি ও একটি টেকসই চুক্তির সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি ইসরাইলকে একটি সাহসী ও সক্ষম মিত্র হিসেবে প্রশংসা করেন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কূটনীতির মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আসবে, তবে পেন্টাগন যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সদা সতর্ক থাকবে।

পেন্টাগনের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়ার দাবি করছে। এখন আলোচনার বল তেহরানের কোর্টে। ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় ইরান কতটুকু নমনীয় হবে এবং মার্কিন শর্তগুলো মেনে নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলে যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান। তবে সামরিক শক্তির এই প্রদর্শনীর পর আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটন যে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন