© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব সরাসরি চীনের অর্থনীতিতে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব সরাসরি চীনের অর্থনীতিতে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৯ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
অনেকদিন পর চীনের কারখানা পর্যায়ের পণ্যের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ৩ বছর ৬ মাস পর প্রথমবারের মতো উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) বেড়েছে। যা নতুন একটি অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন চীনের অর্থনীতিতে সরাসরি পড়ছে।

এর ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশে যদি মূল্যস্ফীতি শুধু উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বৃদ্ধি পায়, তাহলে নীতি নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এ ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা বাড়ে না, তবুও বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে এবং সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়বে।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চে পিপিআই আগের বছরের তুলনায় ০.৫% বেড়েছে। এর আগে টানা ৪১ মাস এই সূচক কমছিল। এমনকি রয়টার্সের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে এই বৃদ্ধি ঘটেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন জানায়, এই খরচ বৃদ্ধির প্রধান কারণ জ্বালানি নির্ভর শিল্প।

নন-ফেরাস ধাতু খাতে দাম অনেক বেশি বেড়েছে, একইভাবে ধাতু প্রক্রিয়াজাত খাতেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। তেলের দাম বাড়ায় কারখানাগুলোর ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, বাইরে থেকে আসা মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। কারণ এতে কোম্পানিগুলোর কিছু করার সুযোগ কম থাকে। তারা যদি বাড়তি খরচ গ্রাহকের ওপর চাপাতে না পারে, তাহলে তাদের লাভ কমে যায়।

এর ফলে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং নতুন চাকরির সুযোগও হ্রাস পেতে পারে।

অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও তা ধীরগতিতে হচ্ছে। মার্চে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়েছে ১%, যা আগের মাসের চেয়ে কম। এমনকি মাসভিত্তিক হিসাবে দাম কিছুটা কমেছেও।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চীনের ওপর চাপটি মূলত বাইরে থেকে আসছে, অথচ দেশের ভেতরের অর্থনীতি এখনও দুর্বল এবং বিদেশি চাহিদাও কমছে। এর প্রভাব পড়েছে গাড়ি বিক্রিতেও, যা টানা ছয় মাস ধরে কমছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পেট্রোলচালিত গাড়ির চাহিদা কমেছে, আর প্রণোদনা কমে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রিও কমেছে।

এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা দিতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো যদি মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ে, তাহলে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

একজন উপদেষ্টা বলেছেন, চীন এখন একসঙ্গে দুটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি। এছাড়া খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে।
তেলের দামের প্রভাব কমাতে চীন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের ভেতরে জ্বালানির দাম কতটা বাড়বে, তার একটি সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন