র্যাফেল ড্র’র নামে লটারির টিকিটে বাণিজ্য, পুরস্কার না দিয়েই উধাও আয়োজকরা
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৫ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ বালুঘাটে অনুষ্ঠিত একটি গ্রামীণ মেলায় র্যাফেল ড্র’র নামে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আয়োজকদের গা-ঢাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘোষিত পুরস্কার না পেয়ে লটারিতে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ জেলা প্রশাসকের কাছে এক মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, সার্কাস, যাত্রাপালা ও র্যাফেল ড্র আয়োজনের অনুমতি চান। পরে অনুমোদন অনুযায়ী গত ২০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিনের জন্য মেলার অনুমতি দেয়া হয়। তবে আয়োজকরা ২২ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চালিয়ে যান।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান আয়োজকদের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মেলার আড়ালে প্রতিদিন রাতে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো এবং এতে বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের ভিড় জমত।
মোটরসাইকেলসহ অন্তত ৫০টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে ২০ টাকা মূল্যের লটারি টিকিট বিক্রি করা হয়। মাগুরার চার উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় এসব টিকিট বিক্রি করে আয়োজকরা বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, প্রতিদিন তারা ২৩০ জন এজেন্টের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ টিকিট বিক্রি করতেন, যার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় শেষে ৬ এপ্রিল রাতে ৫০ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলেও কোনো পুরস্কার বিতরণ করা হয়নি। পরদিন ৭ এপ্রিল আরও কয়েক লাখ টাকার টিকিট বিক্রির পর রাতে র্যাফেল ড্র আয়োজন না করেই আয়োজকরা পালিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলার প্যান্ডেলে ভাঙচুর চালায়।
পুরস্কার বিজয়ী দাবি করা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার রিপন বলেন, তাকে মোটরসাইকেল জেতার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি আর আয়োজকদের খুঁজে পাননি। এটি তার জীবনের বড় প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইভাবে রবিউল ইসলাম অন্তরসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)- এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ দাবি করেন, মেলার অনুমতির আবেদন তিনি করলেও কার্যক্রম পরিচালনা ও আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করেছেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইদ্রিস আলি ও মোমিন। হঠাৎ থানা থেকে মেলা বন্ধের নির্দেশ আসায় তারা পুরস্কার বিতরণ না করেই পালিয়ে গেছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপি থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী এই লটারি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ বলেন, লটারি একটি জুয়ার মতো কার্যক্রম। দলের কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দল কখনোই অবৈধ কাজের দায় নেবে না।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মেলার অনুমোদন ছিল এবং র্যাফেল ড্র’র অনুমতিও ওই সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এর পরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। ইতোমধ্যে একজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসকে/এসএন