৩ দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রিসংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৯ শতাধিক মনোনয়ন জমা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৬ এএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কেনা ও জমাদানের শেষ দিনেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। গত তিন দিনে এক হাজার ২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে।
গতকাল রোববার শেষ সময়সীমা থাকলেও এ সময়ে ৯ শতাধিক ফরম জমা পড়েছে। আজ সোমবারও জমা নেওয়ার কথা রয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্র, শনি ও রোববার এক হাজার ২০০-এর বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন অন্তত ৯ শতাধিক নারী নেত্রী। গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়ার কথা থাকলেও এদিন রাত ৯টা পর্যন্ত জমা নেন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও অনেকে মনোনয়ন ফরম জমা দেননি। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবারও মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করবেন পালামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা। পরে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে এলাকার উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা ও সাক্ষাৎকার নেবেন বোর্ডের সদস্যরা। বিএনপি ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পেলেও শতাধিক নারী নেত্রীকে পর্যালোচনায় রাখা হতে পারে। এলাকা নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানতে পালামেন্টারি বোর্ডের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে তিনিসহ বোর্ডের অন্য সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবেন।
সূত্র আরো জানায়, বিভাগ অনুযায়ী ভাগ করে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাছাই করা হবে। সংসদ নির্বাচনে যেসব জেলায় বিএনপির প্রার্থীরা বেশি পরাজিত হয়েছেন, সেসব জেলাকে নারী প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মনোনয়ন ফরম কেনা ও জমাদান ঘিরে উৎসমুখর ও কর্মচঞ্চল কেন্দ্রীয় কার্যালয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি তাদের শত শত কর্মী-সমর্থক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন। সামনের সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কোথাও ছোট ছোট জটলা। কেউ কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউবা আলোচনা করে ফরম পূরণ করছেন। অনেক প্রার্থীকে তাদের সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহকারে কার্যালয়ে আসতে দেখা যায়।
প্রয়াত মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে স্থপতি সালিমা বেগম আরুনি বলেন, আমি বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকে বিএনপির রাজনীতি সঙ্গে জড়িত। বাবার পাশে থেকে এ দলকে দেখেছি। পদ না থাকলেও নেতাকর্মীদের সব সময় সহযোগিতা করেছি। আমার পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতি করে। আমরা মনেপ্রাণে এই দল, শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।
এদিকে, তারকা প্রার্থীদের সঙ্গে যারা অশোভন আচরণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অশোভন আচরণ দলে গ্রহণযোগ্য নয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে সম্প্রতি কিছু তারকার মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলের ভেতরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে রিজভী বলেন, দলে সেলিব্রিটি আসা অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের বহু দেশে সেলিব্রিটিরা রাজনীতিতে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে রোনাল্ড রিগান থেকে শুরু করে ভারতেও বহু শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন। সবাইকে কি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে? একজন বিখ্যাত শিল্পী যদি দলের পক্ষে অবস্থান নেন, সেটাও বড় অবদান।
রিজভী বলেন, দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এবার সংগঠন করার দক্ষতা, মেধা ও মননশীলতা- সব মিলিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
জানা গেছে, সংগীতশিল্পীদের মধ্যে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে ছয়জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এরা হলেন- বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী।
এসকে/টিএ