শেষ ইচ্ছা কী ছিলো আশা ভোসলের?
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৫ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতীয় সংগীতজগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তবে তার শেষ ইচ্ছা জড়িয়ে ছিল সংগীতের সঙ্গেই।
এক আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আশা ভোসলে জানিয়েছিলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তটিও তিনি কাটাতে চান গান গাইতে গাইতে। তার ভাষায়, ‘আমার একটাই ইচ্ছা, গাইতে গাইতেই যেন আমি চলে যাই। গানই আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গাইছি, বাবার কাছ থেকে শেখা। পুরো জীবনটাই এই সংগীতের ভেতর কেটে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রজগতে তার দীর্ঘ পথচলা ৮০ বছরেরও বেশি। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর তার একমাত্র চাওয়া ছিল শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত গান করে যাওয়া। গানের মধ্যেই তিনি খুঁজে পেতেন নিজের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী ছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সেই সংসারে তার তিন সন্তান হেমন্ত, বর্ষা ও আনন্দ ভোঁসলে। তবে দাম্পত্য জীবনে নানা জটিলতার কারণে ১৯৬০ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
পরবর্তীতে সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন আশা। তাদের যুগলবন্দি ভারতীয় সংগীত ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে আছে।
তবে জীবনে বড় আঘাতও সয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে মেয়ে বর্ষার মৃত্যু এবং ২০১৫ সালে ছেলে হেমন্তের ক্যানসারে মৃত্যু তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। তবু সব কষ্টকে সঙ্গী করে সংগীতের ভুবনেই নিজেকে ধরে রেখেছিলেন তিনি।
আজ তিনি নেই, কিন্তু তার কণ্ঠ, তার ইচ্ছা আর তার ভালোবাসা সবকিছুই যেন চিরকাল বেঁচে থাকবে গানের মধ্যেই।
পিআর/টিকে