নকলের ধরন পরিবর্তন হয়ে ডিজিটাল হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩২ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকলের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে; প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে যশোর পিটিআই অডিটরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং খুলনা বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় তিনি মাঠ পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন।
কেউ সমালোচনা করছেন, কেউ উৎসাহ দিচ্ছেন; তবে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা আন্তরিক।’
অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই দশক আগে যশোর সফরে এসে দুই ট্রাক গাইড বই জব্দ করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই প্রবণতা কমেনি; বরং আকার ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন হয়তো ২০ ট্রাক গাইড জব্দ করতে হতে পারে—এটাই বাস্তবতা।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা-সম্পর্কিত ভবনকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হয়েছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।’
নকল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নকল করলে সেটি আমাদের তদারকির দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
করোনাকালের মতো নকলের ধরনও বদলেছে—এখন তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। এর মূল কারণ আমাদের মানসিকতার সমস্যা।’
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের কোনো আগ্রহ ছিল না। শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে গিয়েছিল একটু পড়লেই পাস।
আর মোটামুটি পড়লে জিপিএ ৫। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আনার জন্য দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষকতাকে শুধু পেশা হিসেবে বেছে নিলে হবে না; ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। একটি ভালো জাতি গড়তে পারলে দেশ সমৃদ্ধ হবে।’
সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক সভায় বক্তব্য দেন।
বক্তারা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক রাখতে জোর দেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সহনশীল পরীক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
টিজে/টিএ