ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি নিয়ে সংগীতশিল্পী কনকচাঁপার আক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৮ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
নারী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। শনিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নয়াপল্টনে ফরম নেন তিনি। এ সময় মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় নেত্রীদের তোপের মুখে পড়েন এ সংগীতশিল্পী।
যদিও এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন কনকচাঁপা। সেই সময় দল তাকে মনোনীত করেনি। তবে এবার নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এই প্রেক্ষাপটে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না জানালেও রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এ সংগীতশিল্পী।
সেই পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন- বছরজুড়ে নিজের দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নিরলস কাজ করেছি। কিন্তু কোনো কারণে দল আমাকে মনোনীত করেনি। তা আমি কষ্ট পেলেও মেনে নিয়েছি। সে জন্য কে কী ভাবল তাতে আমার কিছু আসে-যায় না।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রতি আমার আনুগত্য শতভাগ। কিন্তু অযথা অন্যায়ভাবে মিথ্যাচার করে মানুষের কাছে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীনপ্রচেষ্টা বস্তুতই দুরভিসন্ধি। আমার মনে হয়, যারা জাতীয় নির্বাচনে চায়নি যে, আমি নমিনেশন পাই, তারা এখনো সেই অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।
এ সংগীতশিল্পী বলেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা নেতাকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি, কেউ জেল খেটেছে, কেউ মামলা খেয়েছে। আর আমি? আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছি। একজন শিল্পী গাইতে না পারলে তার কী বাকি থাকে বলুন?
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোথাও কোনো গান গাইতে পারিনি। আমি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ফুল ও লতাপাতার ছবি আঁকা, আমার পরিবার ও রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছি। আমি সবার ক্ষতিকেই ক্ষতি হিসেবে দেখি, তাদের এই ত্যাগকে মূল্যায়ন করি, কিন্তু আমার এই যে ক্যারিয়ার হারানো, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কোনো স্বীকৃতি কি আমি পেতে পারি না?
২০১৩ সালে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তখন তিনি মহিলা সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা বলেছিলেন এবং যেটা আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবু আমি তার কথা বেদবাক্য হিসেবে মেনে নিয়ে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, যার ফলে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পাই। বলা বাহুল্য, সেই যাত্রা সহজ ছিল না। ছিল বিপৎসংকুল এবং আমার জন্য দুরূহ। আমি এবং আমার আল্লাহ জানেন- আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এই লড়াই চালানোর চেষ্টা করে গেছি। আমি একজন রাজনৈতিক মনের মানুষ, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই। যার জন্য পুরো কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং নেত্রীর আদেশ আমি পালন করেছি।
কনকচাঁপা বলেন, দলের যে কারও অধিকার আছে মনোনয়ন চাওয়ার। যে কেউ নিজেকে যোগ্য মনে করারও অধিকার রাখে। আবার দলের নীতিনির্ধারকদেরও বিধান আছে যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়ার।
তিনি বলেন, অতএব মনোনয়ন ফরম কেনার দুয়ার সবার জন্য খোলা বলাই বাহুল্য। যাই হোক আমার সঙ্গে করা অনেক অন্যায়ের বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এর ফলে দলের যদি কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয় তা খুবই দুঃখজনক। এ সংগীতশিল্পীর বক্তব্যেই বোঝা যায়, দলের ভেতরেই একটি অংশ তার মনোনয়নপ্রাপ্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন—এমন ধারণা তার মধ্যে কাজ করছে।
এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা উপস্থিত ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারীনেত্রীদের একাংশ তার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছে? যারা
তিনি আরও বলেন, বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন? আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না বলে জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় মহিলা দলের এ নির্বাহী সদস্য।
জেরিন রনি বলেন, কনকচাঁপা কয়টা মামলা খেয়েছেন? কয়টা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন? যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, আমরা তাদেরই মনোনয়ন চাই।
এ সময় আরও কয়েকজন নেত্রী একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দলে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের উপেক্ষা করে হঠাৎ করে আগত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এসএ/টিএ