৭ বছর পর মঞ্চে ফিরছেন ম্যাডোনা
ছবি: সংগৃহীত
১২:০২ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা ৬৭ বছর বয়সে তার নতুন স্টুডিও অ্যালবাম 'কনফেশনস অন এ ড্যান্স ফ্লোর: পার্ট ২' প্রকাশের ঘোষণার মাধ্যমে আবারও ভক্তদের নাচের ছন্দে ভাসাতে প্রস্তুত। পপসংগীতের রানী আবার ফিরছেন নাচের মঞ্চে। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন ম্যাডোনা। অ্যালবামটি নিয়ে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছে।
এটি হচ্ছে ২০০৫ সালের আইকনিক অ্যালবাম 'কনফেশনস অন এ ড্যান্স ফ্লোর '-এর সিক্যুয়াল। আর অ্যালবামটি আগামী ৩ জুলাই ওয়ার্নার রেকর্ডসের অধীনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ওয়ার্নার রেকর্ডসের এই অ্যালবামের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও একসঙ্গে কাজ করছেন ম্যাডোনা ও প্রখ্যাত প্রযোজক স্টুয়ার্ট প্রাইস। এর আগের অ্যালবামের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন স্টুয়ার্ট। সেই অ্যালবামের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘হাং আপ’, ‘সরি’ ও ‘জাম্প’।

ম্যাডোনার সংগীতজগতে পথচলার শুরু আশির দশকে। ১৯৮২ সালে ওয়ার্নার রেকর্ডস থেকে স্বনামে অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক হিট গান দিয়ে পপসংগীতের জীবন্ত এক কিংবদন্তিতে পরিণত হন তিনি। বিশেষ করে ‘লাইক আ ভার্জিন’ (১৯৮৪) এবং ‘লাইক আ প্রেয়ার’ (১৯৮৯) গান দুটি তাকে বিশ্বজুড়ে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯২ সালে ম্যাডোনা নিজেই নতুন এক উদ্যোগ নেন। টাইম ওয়ার্নারের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন মাল্টিমিডিয়া বিনোদন প্রতিষ্ঠান ও রেকর্ড লেবেল ম্যাভরিক। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগীত, সিনেমাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল কাজ বিস্তৃত করেন এ সংগীতশিল্পী। ২৫ বছরের সম্পর্কের পর শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার রেকর্ডসের সঙ্গে তার চুক্তির ইতি ঘটে ২০০৮ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘হার্ড ক্যান্ডি’র মধ্য দিয়ে। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর পর ম্যাডোনা ওয়ার্নার রেকর্ডসের প্রযোজনায় আবার গান প্রকাশ করছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে অ্যালবামের ঘোষণা দেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। সঙ্গে প্রকাশ করেন কভার আর্ট, যেখানে তাকে দেখা যায়, বেগুনি রঙের স্পিকারের ওপর বসে থাকতে, পরনে লিঞ্জারি আর মুখ ঢেকে রাখা গোলাপি কাপড়ে। একই সঙ্গে ম্যাডোনা অ্যালবামের প্রথম গানের একটি ছোট অংশও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়েছেন, যা ভক্তদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ম্যাডোনা ও স্টুয়ার্ট প্রাইস অ্যালবাম তৈরির পেছনের ভাবনা বা ‘ম্যানিফেস্টো’ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তারা বলেছেন, আমাদের নাচতে হবে, উদযাপন করতে হবে, আর শরীর দিয়ে প্রার্থনা করতে হবে। হাজার বছর ধরে মানুষ এভাবেই নিজেদের প্রকাশ করে গেছে। এগুলো আসলে এক ধরনের আধ্যাত্মিক চর্চা। ড্যান্স ফ্লোর এক ধরনের আচার-অনুষ্ঠানের জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের ভেতরের ক্ষত, দুর্বলতা ও অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
এ প্রসঙ্গে ম্যাডোনা বলেন, নিউইয়র্ক শহরে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে মাত্র তিনটি গান প্রকাশের চুক্তি দিয়ে শিল্পী হিসেবে পথচলা শুরু করেছিলাম। প্রথম থেকেই ওয়ার্নার রেকর্ডস আমার সত্যিকারের সহযাত্রী ছিল। আবার একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন সংগীত তৈরি করতে চাই, অপ্রত্যাশিত কিছু করতে চাই, আর হয়তো কিছু প্রয়োজনীয় আলোচনাও উসকে দিতে চাই।
এসএ/এসএন