সিএনএনের বিশ্লেষণজানা গেল ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বানানো মিমগুলোর অর্থ
ছবি: সংগৃহীত
০২:১১ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কখনো পোপ, কখনও রকস্টার, বক্সার কিংবা সিনেমার নায়ক হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই তাকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করে ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই নিয়ে কত আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরস। কিন্তু কেন এমন করেন ট্রাম্প?
এসব শুধু যে ট্রাম্প করেন, তা কিন্তু নয়। তার সমর্থকরাও ট্রাম্পকে ‘অবতার’ বা ‘নায়ক’ বানানোর চেষ্টা করেন। সেসব নিয়ে বিস্তর ব্যঙ্গও হয়। অনেক ট্রোল বা মিমও বানানো হয়। তবে এগুলো যদি হাস্যরস বা ঠাট্টা মনে হয়, তবে পুরো বিষয়টি ধরতে পারছেন না।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটা একটা কৌশল হতে পারে। ট্রাম্প সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন যিশু সেজে পোস্ট করে। সেটি অবশ্য তিনি মুছে ফেলেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝতে পেরেছেন তিনি হয়তো সীমা অতিক্রম করেছেন।
তবুও তার সমর্থকদের উসকে দেওয়া এখন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলের একটি বড় অংশ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মানুষ অনলাইন ‘ইকো চেম্বারে’ থাকে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই তথ্য পায়। এখান থেকেই প্রতিক্রিয়া জানায়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টে সরকারি পদে এমন একজন ব্যক্তি সম্প্রতি ট্রাম্পকে ‘ফাউন্ডার ফাদার’ হিসেবে দেখিয়েছেন। ওই ছবিতে দেখা যায় ট্রাম্প সংবিধান বা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করছেন। যদিও সেই এআই-তৈরি ছবিটি ত্রুটিপূর্ণ, কারণ সেখানে তিনি কলমের বদলে পাখির পালকের কলম ব্যবহার করছেন।
একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে হকি খেলোয়াড় হিসেবেও দেখানো হয়েছে। তিনি কানাডার ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন—যখন আমেরিকার অলিম্পিক হকি স্বর্ণপদক নিয়ে আলোচনা চলছিল। অর্থাৎ যখন কোনো বিষয়ে সংকট তখন ট্রাম্পকে সেই অবতারে দেখানো হচ্ছে। এটা হতে পারে হোয়াইট হাউসের নির্দেশে নয়ত মদদে।
প্রযুক্তি সাংবাদিক টেইল লোরেঞ্জ বলেছেন, মিম আসলে ভিজ্যুয়াল যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে সরাসরি কিছু না বলেও সাংস্কৃতিক আলোচনায় ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
যিশু সাজা ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার করে ব্যাপক ট্রোল করেছে ইরানিরা। তাজিকিস্তানে ইরানের দূতাবাস একটি ভিডিও পোস্ট করে, যেখানে যিশু আকাশ থেকে নেমে ট্রাম্পকে আঘাত করছেন।
আবার ট্রাম্পকেই যিশুর রূপে দেখানো হয়েছে।
পর্দু ইউনিভার্সিটির গ্রাইল ল্যাবের সহ-পরিচালক কিলিয়েণ জ্যাকসন স্কাইফের মতে, এসবই এক ধরনের ‘ডিপফেক’।
ম্যান বা দেবতাসদৃশ দেখানো ছবিগুলোকে ‘ফ্যানফেক’ করে তার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
এইসব ছবি হোয়াইট হাউস তৈরি করেছে কিনা নিশ্চিত নয়। তবে ফেব্রুয়ারিতে ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার নিক অ্যাডামস প্রথম ট্রাম্পকে যিশুর মতো একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে তার সমর্থকদের সম্পর্ক আমেরিকার রাজনীতিতে অনন্য। তিনি মিম থেকে দূরে না থেকে বরং এগুলোকে আরও ছড়িয়ে দেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার সমর্থকরা তাকে একদিকে ‘সাধারণ মানুষ’, অন্যদিকে মহান নায়ক হিসেবে দেখে।
টেইলর লরেঞ্জ বলেন, এসব ছবি হাস্যকর মনে হলেও ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। ঠিক যেমন প্রতিদিন দেখা বিজ্ঞাপন আমাদের অজান্তেই প্রভাবিত করে। মিম-ভিত্তিক রাজনৈতিক প্রভাব তৈরিতে ট্রাম্প অত্যন্ত দক্ষ।
বর্তমানে রাজনৈতিক বামপন্থীদের মধ্যে এমন শক্তিশালী মিম-নেতৃত্ব দেখা যায় না। ডেমোক্র্যাটরাও চেষ্টা করছে পাল্টা মিম তৈরি করতে। ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করতে। তবে এই মিম-রাজনীতি অনেক সময় অত্যন্ত হালকা বা গুরুত্বহীন মনে হয়, যা একজন রাজনীতিকের শাসনকার্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্পের যিশুর মতো ছবি প্রথমে পোপের সঙ্গে তার বিরোধের প্রেক্ষাপটে এলেও, পরে সেটিই মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অনেকে বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো করে ভাবছেন।
এসএন