© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

শেয়ার করুন:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৫ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। একটি জাতির জন্য সুশিক্ষিত প্রজন্ম দরকার।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনে বাজেট বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। আমরা যেন বহির্বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারি এই শিক্ষাই আমাদের অর্জন করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গুগলে দেখবে বিশ্বে কীভাবে তোমাদের ক্লাসে একটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে কীভাবে পড়াশোনা হয়? তোমরা সেভাবে ডিমান্ড করবে শিক্ষকদের কাছে। তাদের সেটা করতেই হবে। এখন আর আগের দিন নেই, শিক্ষকরা যা বলতো আমরা বুঝতাম, এর বাইরে আর কিছু নেই। এখন তুমিও জানো কীভাবে কী হয়।’

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ে নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যেব শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে জানতে চান আন্তর্জাতিক মানদন্ডে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঙ্কিং কত। বিশ্ব রাংকিংয়ে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যার অভাব নেই। আমাদের ছাত্রছাত্রীর অভাব নেই। সুতরাং, বিশ্বের অনান্য দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রের অভাব। আমাদের সেই অভাব নেই।

বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে যেতে আমাদের কোনো বাধা নেই। বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে না পরলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’

ড. মিলন আরও বলেন, ‘এই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় চলে জনগনের করের টাকায়। তাই জনগণের টাকায় তুমি পড়ছো। দেশের প্রতি তুমি কতটুকু ঋণি এটা তোমাকে বুঝতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষক নিয়োগে দলীয় এবং বিরোধী দলীয় রাজনীতি করা হয়। তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

ফেসবুকের ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ‘এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দিব-এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন কঠোরঠ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন আমি দেখতে চাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে তা তদারকি করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) রিপোর্টের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টও আমার কাছে থাকবে।’

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ এনামউল্লাহর সভাপতি তে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, দিনাজপুর ১ সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, দিনাজপুর দুই সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী, দিনাজপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন