© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে : অর্থ উপদেষ্টা

শেয়ার করুন:
এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে : অর্থ উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৩ এএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতি আরও উস্কে দিতে পারে, জনজীবনে দুর্ভোগ আসতে পারে, অতি দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে, নিম্নবিত্ত আরও দরিদ্র হতে পারে। এক রকম বৈরী পরিবেশে বর্তমান সরকার কৃষক ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কোনো জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয় সাধন করা হয়নি বা বাড়ানো হয়নি। এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে।’

সংকট মোকাবেলায় বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর ও বিগত দিনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো সংকট বর্তমান সরকারের কাছে নতুন কিছু নয়। অতীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত একটি অর্থনীতি শহীদ প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছিল। তখন বৈদেশিক সহযোগিতা ও আমাদের জনশক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এরকম সংকটের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড অর্থাৎ সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে করে বাংলাদেশ দরিদ্রমুক্ত হয় এবং স্বাধীনভাবে স্বনির্ভরতার সঙ্গে ও মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কারণ এই সরকার বাগাড়ম্বর, বয়ান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাস করে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি বা তাদের দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তা জনরায়ের মাধ্যমে জাতীয় এজেন্ডায় রূপান্তরিত হয়েছে। সেই ইশতেহারের পাঁচটি ফাউন্ডেশন ছিল-প্রথমত রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুত্থান, দ্বিতীয়ত আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃতীয়ত ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুত্থান, চতুর্থত সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পঞ্চমত ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ার মাধ্যমে বিভাজন পরিমার্জিত করে সমাজ নির্মাণ।

তিনি আরও বলেন, আমরা সেই জনরায়ের বাস্তবায়নের লক্ষ্য হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক সময় বলা হয় যে অঞ্চলে অঞ্চলে বৈষম্য বিরাজমান। কিন্তু কখনও কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট এই আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমাদের ইশতেহারে বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি যে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন হবে। তারই অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার থাকার কথা, কিন্তু কৃষক, দুগ্ধজাত উৎপাদনকারী খামারিরা ও মৎস্যজীবীরা কখনও সম্মান বা অধিকার পাননি। বাংলাদেশে এই প্রথম এবং বলা যায় উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রথম সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছি। একদিকে সর্বজনীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ডের ক্ষেত্রেও সর্বজনীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি উন্নয়নশীল ইতিহাসে প্রথম।

সভায় শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সাঈদ আহমেদ দাবি জানিয়ে বলেন, কাজের পরিবেশ আগে সৃষ্টি করতে হবে। তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রতি সংসদীয় আসনে কার্যালয় থাকা প্রয়োজন মন্তব্য করে বলেন এতে কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে। নদী ভাঙ্গন চলছে ১০ কিলোমিটার ব্যাপী। তা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গোপালগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা কে এম বাবর বলেন, গোপালগঞ্জে অতীতে যেসব প্রকল্প করা হয়েছে তা আয়ের উৎস না হয়ে ভর্তুকি মূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

গোপালগঞ্জবাসী বর্তমান সরকারের দ্বারা প্রথম বৈষম্যের শিকার হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিন তিনটে সংসদীয় আসনে জয়ী হলেও গোপালগঞ্জ থেকে কাউকে মন্ত্রী বানানো হয়নি।

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কমিশন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন মাদরাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। মাদরাসা শিক্ষা যদি প্রচলিত শিক্ষার সাথে সমন্বয় না ঘটে তাহলে জাতির ভাগ্যর পরিবর্তন হবে না। 

ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, এ এলাকায় মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষি উপকরণ আমরা ঠিক মত সরবরাহ করতে পারছি না, সিন্ডিকেট এর কারণে। কৃষক কষ্টের কথা আমারা শুনতে চাই না তারা কষ্টে আছে। জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের সমর্থকরা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, শরীয়তপুরের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী, অন্যদের মধ্যে করিম গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মিয়া, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, শরীয়তপুর বিএনপির সাংগঠনিক মাহবুব আলী তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন