ইতিহাদে শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণে মুখোমুখি আর্সেনাল-ম্যানসিটি
ছবি: সংগৃহীত
০১:০০ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের লড়াই যখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তখন খুব কম ম্যাচই ম্যানচেস্টার সিটি বনাম আর্সেনাল ম্যাচের মতো গুরুত্ব বহন করে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজকের (রোববার) এই লড়াইটি পুরো মৌসুমের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
বর্তমানে আর্সেনাল শীর্ষে, কিন্তু ব্যবধান কমে আসছে। ম্যানসিটি গত কয়েক মাস ধরে তাদের কাজ করে চলেছে— নীরবে গতি বাড়াচ্ছে, লিডের সঙ্গে ব্যবধান কমাচ্ছে, চাপ তৈরি করছে এবং এমন এক মুহূর্তের অপেক্ষায় তারা, যখন এই লড়াই প্রত্যেকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে। এক ম্যাচ হাতে রেখে তারা ৬ পয়েন্ট পেছনে, হিসাবটা স্পষ্ট। আর্সেনালকে হারানোর পাশাপাশি বাড়তি ম্যাচটা জিতলে শিরোপার চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে।
আর্সেনালের জন্য বিষয়টি পয়েন্টের চেয়েও বেশি কিছু। এটা কর্তৃত্ব, দৃঢ়তা ও অন্যদের মনে করিয়ে দেওয়া যে তারা কেন দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে। সাম্প্রতিক হোঁচটের পর আর্সেনালকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তা সঙ্গত কারণেই। চার ম্যাচে এক জয় চ্যাম্পিয়নদের মাঠে নামার জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নয়। এই ম্যাচ হারলে তাদের ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর লড়াইয়ে বিশাল ধাক্কা লাগবে। বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের বর্তমান চাপ হয়ে দাঁড়াবে পাহাড়সম।
অবশ্য মিকেল আর্তেতার অধীনে আগেও আর্সেনাল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা জানে এই ম্যাচের গুরুত্ব। প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও জানা আছে। তারা বুঝতে পারছে, এই ম্যাচের ফল লিগে তাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারে। আর এই বিষয়টিই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জ্বালানি হতে পারে।
তবে ম্যানচেস্টার সিটিকে আগের মতোই চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছে। যারা বল দখলে অত্যন্ত পরিমিত, সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের ওপর নির্দয় এবং চাপের মুখেও বেশ সাবলীল। বিশৃঙ্খলার পেছনে তারা সেভাবে ছোটে না, বরং তারা প্রতিপক্ষের জন্যই বিশৃঙ্খলা তৈরি করে দেয়।

সম্প্রতি কারাবাও কাপ ফাইনালে সিটি ২-০ গোলে জিতেছিল। সেই ম্যাচটি দুই দলের মনে বেশ ভালোভাবে গেথে আছে। এই ম্যাচ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দুই দলের লড়াইয়ের সময় মনে করিয়ে দেবে, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ও দুই বক্সেই কার্যকারিতা বড় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
বর্তমানে ম্যানসিটি ফর্মের তুঙ্গে। আগের ম্যাচে তারা চেলসিকে ৩-০ গোলে হারায়। অন্যদিকে আর্সেনাল হেরে গেছে বোর্নমাউথের কাছে। প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠে ১৪ ম্যাচ ধরে অপরাজিত সিটি। ইতিহাদে সবশেষ তারা হার দেখেছিল এই মৌসুমের প্রথম ম্যাচে টটেনহামের কাছে। ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষেও দারুণ ফর্মে ম্যানসিটি। গানারদের বিপক্ষে শেষ ১০টি লিগ ম্যাচে অপরাজিত তারা, জিতেছে সাতটি। শেষবার তারা আর্সেনালের কাছে ঘরের মাঠে হেরেছিল ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে।
পরিসংখ্যান পক্ষে থাকলেও গার্দিওলা বেশ সতর্ক, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। আমরা যদি হারি, এটা (শিরোপার দৌড়) শেষ। অন্য দুটি ফলের দিকেও আমাদের চোখ রাখতে হবে, আমাদের হাতে এখনো কয়েকটি ম্যাচ আছে। ছয় ম্যাচ অনেক। এভারটনের মাঠে, বোর্নমাউথেরও মাঠে খেলা। শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ম্যাচ। ক্রিস্টাল প্যালেস ও ব্রেন্টফোর্ডকেও খেলতে হবে। এখনো অনেক কাজ বাকি।’
আর্তেতা বিষয়টি সেভাবে দেখছেন না, ‘আমি জানি না, এখনো ছয়টি ম্যাচ বাকি। দুই দলের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং এটি ভারসাম্যে কিছুটা প্রভাব রাখবে। তবে প্রিমিয়ার লিগে প্রতিটি ম্যাচ জেতা সবার জন্যই খুব কঠিন। এই ম্যাচের পরেও আমাদের সবার জন্য অনেক কঠিন ম্যাচ বাকি থাকবে, তাই যাই ঘটুক আমাদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে জিতলে আপনি লক্ষ্যের কিছুটা কাছে পৌঁছে যাবেন। যেমন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে জিতলে আমরা ফাইনালের কাছাকাছি পৌঁছে যাব। এটা নিশ্চিত, আর সেই কারণেই আমরা আগামী রোববারের ম্যাচটি জিততে চাই। এটি একদম পরিষ্কার।’
এসএস/টিকে