© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের হাতে যুদ্ধবিমান ধ্বংস, খবর শুনেই কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেছিলেন ট্রাম্প!

শেয়ার করুন:
ইরানের হাতে যুদ্ধবিমান ধ্বংস,  খবর শুনেই কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেছিলেন ট্রাম্প!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫৩ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটদের উদ্ধার অভিযান ঘিরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ওয়ার রুম’ বা যুদ্ধ কক্ষ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের আচরণকে ‘অস্থির’ মনে করেই তার ঘনিষ্ঠ সহকারী ও উপদেষ্টারা এমন সিদ্ধান্ত নেন। অভিযানের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট না দিয়ে তাকে শুধু গুরুত্বপূর্ণ সময়ের তথ্য জানানো হতো, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের ধৈর্যহীনতা এই সংবেদনশীল অভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কাই ছিল উপদেষ্টাদের মধ্যে। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং দুই পাইলট নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনাটিকে তিনি সত্তরের দশকের ইরান জিম্মি সংকট–এর সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি উপদেষ্টাদের সতর্ক করেন, এই ধরনের সংকট নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—যেমনটি হয়েছিল জিমি কার্টার–এর সময়।

তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও বাস্তবতায় নানা কৌশলগত ও লজিস্টিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৯ সালের পর ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা না থাকাও বড় বাধা হিসেবে দেখা দেয়।

এদিকে সামরিক উপদেষ্টারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত স্থল সেনা পাঠাতে রাজি হননি ট্রাম্প। সম্ভাব্য প্রাণহানি এবং সেনাদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নিখোঁজ পাইলটদের ঘটনা এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব—এই দুই বিষয়ই ট্রাম্পকে চাপে ফেলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এসএন 

মন্তব্য করুন